সৌদিতে মারা গেলেন এই ৮ বাংলাদেশি

১৮ এপ্রিল ২০২০


সৌদিতে মারা গেলেন এই ৮ বাংলাদেশি

ভয়াবহ এক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। হু হু করে বেড়ে চলছে মহামারি মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস। এই সঙ্কটে হৃদরোগ নামক নিরব ঘাতক ছাড়ছে না প্রবাসীদের পিছু। একদিকে করোনা অন্যদিকে মরণব্যাধি হৃদরোগে প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে প্রবাসীদের প্রাণ।

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে সৌদি আরবে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দুশ্চিন্তা আর পরিবারের চিন্তা করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে নিজ বাসায় ও হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

গত ২ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৬ দিনে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে ১৭ জন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অনন্ত ৭০ জন বাংলাদেশি প্রবাসী। এরমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা-মদিনা ও জেদ্দায় মৃত্যু হয়েছে ৮ বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধার।

মক্কায় জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে নগরীর কিং ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসী যুবক মোঃ মোশেদুল আলমের (৩৫) মৃত্যু হয়। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর আমিরাবাদ ইসমাঈলা হাটের উত্তরে কালু আসিন পাড়ায়। সে মরহুম বাচা আহমদ মিয়ার পুত্র।

করোনা ভাইরাস রেগে আক্রান্ত হয়ে মক্কায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসী হাজ্বী আমান উল্লাহর মৃত্যু হয়। তিনি কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খারুলিয়া বাজার পাড়ার মরহুম সোলতান আহমদের পুত্র।

মদীনায় জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় মৃত্যু হয় প্রবাসী রেজাউল করিমের (৪০)। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণ জলদী মনসুরিয়া মরহম মাওলানা সাইফুল মুল্লুকের পুত্র। তিনি মদীনার বাঙ্গালী মার্কেটস্থ প্রবাসী হোটেলের মালিক মোস্তাকের ছোট ভাই।

সৌদিতে স্ট্রোক করে নিজ বাসা প্রবাসী মকসুদুর রহমান সামির (৩২) মৃত্যু হয়। তিনি ফেনী জেলার ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ছালামত উল্যাহ ভূঁঞার ছেলে।

মদিনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসী ওবাইদুর রহমান জুয়েলের (৫০) মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কানাইমাদারী গ্রামের ছৈয়দ জালাল খাঁন মুন্দার (রঃ) পাড়ার ছৈয়দ জালাল খাঁন মুন্দার (রঃ) বংশধর তৎকালীন জমিদার মরহুম ছৈয়দ ফতেহ আলী চৌধুরীর (ব্রিটিশ পঞ্চায়েত প্রধান) ছেলে মরহুম ছৈয়দ আব্দুল হাকিম চৌধুরীর ছেলে (সাবেক পরিচালক বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর) মরহুম ছৈয়দ আহমদ চৌধুরীর মেজ পুত্র।

মদিনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওহুদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসী মোঃ সিরাজুল ইসলামের (৪৮) মৃত্যু হয়। তার বাড়ি চাঁদপুরে।

মক্কায় একটি হাসপাতালর জিয়াউর রহমান (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পালং খালি ইউনিয়নে।

মক্কার কুবায় জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নিজ বাসায় মুহাম্মদ দুলাল চৌধুরীর (৫৫) মৃত্যু হয়। তার বাংলাদেশি ঠিকানা এখনো পাওয় যায়নি। এছাড়াও মদিনায় আজ্ঞাত আরেক ব্যবসায়ী রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে জানা গেছে।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত সবশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৭ এপ্রিল), গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬২ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪২। মারা গেছেন ৪ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছেন ৮৭ জনে। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৫৯ জন, দেশটিতে সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১০৪৯ জন।