অর্থনীতির চাকা অচল হলে না খেয়ে মরবে মানুষ

৬ এপ্রিল ২০২০


অর্থনীতির চাকা অচল হলে না খেয়ে মরবে মানুষ

শুধু খাবারের জোগান দিয়ে করোনার মহামারি থেকে বাঁচা যাবে না। অর্থনীতির চাকা সচল না রাখলে না খেয়ে মরবে মানুষ, তাই ভাবতে হবে অর্থনীতি নিয়েও। ভারতের লকডাউন পরিস্থিতিতে এমন পরামর্শ দিয়েছেন অমর্ত্য সেনসহ নোবেল বিজয়ী ৪ অর্থনীতিবিদ।

এদিকে ভারতের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি দুটো নিয়েই। উৎপাদন খাত সচল রাখার পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ বলছেন, যেন জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবিকা শঙ্কায় না পড়ে। 

করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। করোনার থাবায় আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু ও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চলছে লকডাউন। এমন অবস্থায় নোবেল বিজয়ী চার অর্থনীতিবিদ বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষই। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলছেন, করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে যেন খাবারের অভাবে মানুষ না মরে। 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, কিছু মানুষ ভাবছে, কীভাবে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে। কিছু মানুষ ভাবছে খাবার জুটবে কিনা। লকডাউনে কর্মসংস্থান হারালে রোজগারের পথই বন্ধ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, খাবারের অভাবে মানুষকে মরতে হচ্ছে। 

২০১৯ সালে নোবেল বিজয়ী অর্থনীবিদ অভিজিত ব্যানর্জির মতে, লকডাউনের সময় সাধারণ মানুষ যেন সরকারকে সহযোগিতা করে, এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, লকডাউনের সিদ্ধান্ত সফল করতে হলে গরিব মানুষের হাতে বিনামূল্যে খাবার তুলে দিতে হবে। তাদের হাতে এমন কিছু তুলে দিতে হবে যেন তারা লকডাউনে প্রশাসনকে সহায়তা করে। 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ এস্থার ডফলার বলেনে, কয়েক সপ্তাহ পরে যদি মানুষের হাতে টাকা না থাকে, তাদের ঘরে আটকে রাখা মুশকিল হয়ে যাবে। লকডাউনের সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হবে। যদি মানুষ বের হতে শুরু করে, সমস্যা আরও বাড়বে। তবে মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়েও ভাবার সময় এখনই। 

অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু মনে করেন, করোনা মোকাবিলায় ভারত সরকারের নেয়া পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়। 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, এখন করোনা মোকাবিলা করি, অর্থনীতি নিয়ে পরে ভাবা যাবে, এমন ধারণা ভুল। অর্থনীতি নিয়েও ভাবতে হবে এখনই। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়তে থাকলে অর্থনীতিতে ধস নামবে। এটার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। 

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির চিত্রও অনেকটা ভারতের মতোই। লকডাউনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতিতে। অর্থনীতিবিদ এমএম. আকাশ বলছেন, ভারতের যে কোনো ভুল পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি যেন বাংলাদেশে না হয়। 

অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, লকডাইন সফল করতে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। সেটার জন্যে দরিদ্র মানুষদের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনী দ্রব্য সরকারের সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।  

তিনি বলছেন, জীবিকার তাগিদে মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয় সেজন্য সামাজিক সুরক্ষার বলয় বাড়ানো এবং কর্মীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সচল রাখতে হবে উৎপাদনখাত।