আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা, তদন্ত কমিটি গঠন

১৫ জুলাই ২০১৯


আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা, তদন্ত কমিটি গঠন

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের এজলাসে হত্যা মামলার এক আসামীর ছুরিকাঘাতে ফারুক (২৮) নামের এজাহার নামীয় অপর আসামী নিহত হয়েছে। এসময় ঘাতক হাসান (৩০) কে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মামলার শুনানীকালে আদালত এজলাসে এই ঘটনাটি ঘটে। বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আদালত ও পুলিশ সুত্র জানায়, জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ২০১৩ সালের ২৬ আগষ্ট মনোহরগঞ্জে হাজী আব্দুল করিম  হত্যা মামলার আসামী ছিল ফারুক ও হাসান। তারা উভয়ে সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। গতকাল ১৫ জুলাই সোমবার ছিল তাদের মামলার নিয়মিত হাজিরার তারিখ। লাকসাম থেকে আদালতের আসার সময় দু’জনেই স্বাভাবিক ছিল। পরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিচারক মামলার কার্যক্রম শুরু করার পর বেলা সাড়ে ১১ টায় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই কোমড়ে লুকানো অবস্থায় থাকা ছুরি বের করে বুকসহ শরীরের একাধিকস্থানে আঘাত করে। তখন প্রান বাঁচাতে ফারুক দৌড়ে বিচারকের খাস কামড়ায় ঢুকে পড়ে। হাসান সেখানে গিয়েও তাকে আঘাত করে। এসময় আদালতের পুলিশসহ অন্যান্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারুককে মৃত ঘোষনা করেন।

এদিকে ঘটনার পরপরই আদালতে থাকা পুলিশ ও বিচার প্রার্থীরা ঘাতক হাসানকে আটক করে। হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পিপি জহিরুল ইসলাম সেলিম, এপিপি ও আইনজীবি ছাড়াও পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পিপি জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, আদালতে বিচারকের কক্ষে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ফারুককে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, এত নিরাপত্তার মাঝে আসামী আদালতের এজলাসে কিভাবে ছুরি নিয়ে প্রবেশ করলো সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত ফারুক মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের কান্দি গ্রামের অহিদউল্লাহর ছেলে। ঘাতক হাসান লাকসাম উপজেলার পৌর এলাকাধীন ভোজপুর গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে। 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক হাসান জানায়, যে মামলায় সে আদালতে এসেছে সেই মামলায় নিহত ফারুকের কারনে তাকে আসামী হতে হয়েছে। সে ক্ষোভের কারনেই ফারুককে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে বিকেলে এই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সদ্য পদোন্নতী পাওয়া পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, অতিঃ পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন (সদর সার্কেল) ও ডিআই (১) মাহবুব মোর্শেদ। কমিটি আগামী ৩ কার্য্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। ডিআই (১) মাহবুব মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।