করোনাভাইরাসে ভারতে প্রথম মৃত্যু কর্ণাটকে

১৩ মার্চ ২০২০


করোনাভাইরাসে ভারতে প্রথম মৃত্যু কর্ণাটকে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতের কর্ণাটকে ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মঙ্গলবার মারা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে খবরটি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বি শ্রীরামুলু। ভারতে করোনা সংক্রমণে এটাই প্রথম মৃত্যু। কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধের লালারস পরীক্ষায় নোভেল করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিবৃতি দিয়ে ওই মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। ঘটনাচক্রে, যে দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না- সে দিন এই খবর পাওয়া গেল।

ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর জানিয়ে কর্ণাটক রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, ‘‘কলবুর্গীর বাসিন্দা ৭৬ বছরের ওই বৃদ্ধ দু’দিন আগে মারা যান। সন্দেহ করা হয়েছিল, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। পরীক্ষায় তার প্রমাণ মিলেছে।’’

ওই ব্যক্তি গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন। হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে তার পরীক্ষাও হয়েছিল। সেই সময় তার দেহে সংক্রমণের কোনো ইঙ্গিত ছিল না। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ৬ মার্চ ওই বৃদ্ধের জ্বরের উপসর্গ ও সর্দি-কাশি হয়। ওই দিনই তাকে বাড়িতে গিয়ে দেখে আসেন একজন চিকিৎসক।

৯ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে কলবুর্গী জেলার একটি হাসপাতালে বৃদ্ধকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়, তিনি করোনা-আক্রান্ত। সে দিনই লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়। রিপোর্ট পাওয়ার আগেই চিকিৎসকদের মতামত উপেক্ষা করে ওই বৃদ্ধকে কলবুর্গীর হাসপাতাল থেকে হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরে মঙ্গলবার ওই বৃদ্ধকে যখন কলবুর্গীর গুলবর্গা ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি রাস্তায় মারা যান।

এদিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’’ দিল্লি ও হরিয়ানা সরকার করোনা-সংক্রমণকে মহামারি ঘোষণা করেছে। দিল্লিতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ও সিনেমা হল বন্ধ। শুক্রবার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে করে ইরান থেকে ১২০ জনকে দেশে ফেরানো হচ্ছে। জয়সালমিরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হবে।