করোনায় যেভাবে বদলে যায় সুস্থ ফুসফুস

১৩ মার্চ ২০২০


করোনায় যেভাবে বদলে যায় সুস্থ ফুসফুস

প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে মারা যাওয়া ৪৪ বছর বয়সী এক চীনা নাগরিকের ফুসফুসের চিত্র সামনে এনেছেন চিকিৎসকরা। এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে পাওয়া এই ছবিতে স্পষ্ট বোঝা যায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস কীভাবে বদলে দেয় ফুসফুসকে। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা আক্রান্তের ফুসফুসে যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে তার সঙ্গে আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাস সার্স ও মার্সে আক্রান্তের ফুসফুসের যথেষ্ট মিল পাওয়া গেছে।

এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে যে মৃত চীনা নাগরিকের ফুসফুসের চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি করোনা ভাইরাসের উৎসভূমি হিসেবে চিহ্নিত দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরের সামুদ্রিক খাদ্যের বাজারে কাজ করতেন। করোনা ভাইরাস উহানে ছড়িয়ে পড়ার প্রথমদিকে গত ২৫ ডিসেম্বর ওই ব্যক্তিকে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। পরে তার শরীরে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। সপ্তাহ খানেক পর ওই ব্যক্তি মারা যান। আক্রান্তের ফুসফুসের এই চিত্র প্রকাশ করেছে রেডিওলজিক্যাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা। ছবিতে চিকিৎসকরা দেখিয়েছেন, সংক্রমণের পর কীভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের ফাঁকা অংশগুলোয় তরল ফ্লুয়িড আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ফুসফুসের ছবি বিশ্লেষণ করেছেন চিকিৎসকরা। দেখা যায়, সংক্রমণের ফলে ফুসফুসের নিচের কোণে সাদা ফাঁকা অংশগুলো কীভাবে তরলে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। যাকে রেডিওলজিস্টরা ‘গ্রাউন্ড গ্লাস ওপাসিটি’ বলে আখ্যায়িত করেন। সার্স ও মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ফুসফুসেও একই ধরনের চিত্র দেখেছেন চিকিৎসকরা।

পরবর্তী সময়ে উহান ভ্রমণের ফলে করোনা আক্রান্ত ৫৪ বছর বয়সী এক নারীরও সিটি স্ক্যান করা হয়। সেখানেও দেখা যায়, তার ফুসফুসের খালি অংশে একই ধরনের তরল ভরে আছে। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ৪৫ বছর বয়সী এক করোনা আক্রান্তের ফুসফুস পরীক্ষা করেও একই চিত্র দেখা গেছে। খবর মেইল অনলাইনের।