সাত নারীকে নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট দিলেন মোদি

৮ মার্চ ২০২০


সাত নারীকে নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট দিলেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাতজন নারীকে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দিয়েছেন। আজ রোববার সকালে এক টুইট বার্তায় মোদি জানান, তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি থেকে লগ আউট করছেন এবং তা দিচ্ছেন সাত জন মহিলাকে। খবর এনডিটিভির

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তারা তাদের জীবনযাত্রার কথা শেয়ার করবেন ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে। তিনি টুইট করে জানান, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা। আমরা আমাদের নারীশক্তির উদ্দীপনা ও সাফল্যকে স্যালুট জানাই। যেমন ক'দিন আগে বলেছিলাম সেভাবেই আমি সাইন অফ করলাম। সারাদিন ধরে সাত জন মহিলা অর্জনকারীরা নিজেদের জীবন যাত্রার কথা শেয়ার করবেন ও হয়তো আপনাদের সঙ্গে মতের আদানপ্রদানও করবেন আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘দেশের সব অংশেই অসামান্য সব মহিলা অর্জনকারী রয়েছেন ভারতে। এই মহিলারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করেছেন। তাদের লড়াই ও আকাঙ্ক্ষা লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্দীপিত করছে। আসুন আমরা সেই সব মহিলাদের সাফল্যকে উদযাপন করি এবং তাদের থেকে শিখি।’

প্রধানমন্ত্রীর টুইটার হ্যান্ডল থেকে প্রথম টুইট করেছেন স্নেহা মোহান্ডোস। তিনি ভারতের ফুড ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি টুইট করে জানান, ‘আপনারা চিন্তার জন্য খাদ্যের কথা শুনেছেন। এবার সময় এসেছে আমাদের দরিদ্রদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। হ্যালো আমি স্নেহা মোহান্ডোস। আমার মায়ের দ্বারা অনুপ্রাণিত। যিনি ঘরছাড়াদের মুখে খাবার তুলে দিতেন। আমি শুরু করেছি ফুড ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া।’

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়াকে চমকে দেন টুইট করে। তিনি জানান, তিনি তার টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব অ্যাকাউন্ট ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছেন।

তার এহেন টুইটের পর থেকে শুরু হয় জল্পনা। পরের দিন অবশ্য প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ছেড়ে দেবেন সেই মহিলাদের যাঁদের জীবন ও কাজ তাঁকে উদ্দীপিত করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিপুল ফলোয়ার রয়েছে। সারা বিশ্বের নেতাদের মধ্যে এবিষয়ে তিনি অগ্রগণ্য। টুইটারে তার ফলোয়ার ৫৩.৩ মিলিয়ন, ফেসবুকে ৪৪ মিলিয়ন, ইনস্টাগ্রামে ৩৫.২ মিলিয়ন ও ইউটিউবে ৪.৫ মিলিয়ন।

সোমবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ার কথা জানালেন তার ভক্তরা হতাশ হন এবং দ্রুত শুরু হয় হ্যাশট্যাগ নো স্যার। যার মাধ্যমে সকলে তাকে মিনতি করতে থাকেন এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর ওই পোস্টটি ৪৯,০০০ বার রিটুইট করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাইক পড়ে যায় ১,৭২,৮০০টি। অনেকেই ভাবতে থাকেন সিএএ-কে নিয়ে ওঠা রাজনৈতিক ঝড় ও দিল্লি হিংসার কারণেই প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিনা।