মনের মানুষকে ঘরে তুলে আনা হলো না ইমনের

৬ মার্চ ২০২০


মনের মানুষকে ঘরে তুলে আনা হলো না ইমনের

পরিচয় হয়েছিল রং নম্বরে। তারপর প্রেম। প্রেমের শেষ পরিণয় বিয়ের পথেও এগিয়েছিল দুই পরিবার। পাত্রীর হাতে আংটি পরানোর জন্য বৃহস্পতিবার রাতে কাতার প্রবাসী ইমন খান এবং তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ ১৩ জন রওনা হয়েছিলেন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, কনের বাড়িই পৌঁছানো হলো না তাদের। নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে তাদের মাইক্রোবাস শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জে পৌঁছানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই আটজনসহ প্রাণ যায় ১০ জনের। নিহতদের মধ্যে আছেন ইমন, তার বাবা ও ভাই। এ ঘটনায় মুহূর্তেই বিয়ের উৎসব পরিণত হয় শোকে। দুই পরিবারে পড়ে যায় কান্নার রোল।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাগলা উপজেলার ত্রিশাল এলাকার আব্বাস উদ্দিন খানের ছেলে ইমন আহমদ খানের সঙ্গে রং নম্বরে পরিচয় হয় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি মেয়ের। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েকদিন আগে তাদের বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। সে অনুযায়ী পাত্রীর হাতে আংটি পরানোর জন্য শুক্রবার ওই পরিবারের স্বজনরা একটি গাড়িতে করে রওনা হয়েছিলেন। সকাল ৭টায় নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও নামক স্থানে পৌঁছলে গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই বর ইমন আহমদ খানসহ আটজন মারা যান। পরে হাসপাতালে মারা যান দু'জন।

ইমনের মামাতো ভাই আব্দুল আহাদ বলেন, রং নম্বরে পরিচয়, তারপর প্রেম এবং বিয়ের দিন ঠিক হলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না ইমনের। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে এক নারী ও সাতজন পুরুষ নিহত হন। এতে শিশু ও চালকসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, পরে সেখানে সুমনা বেগম নামে এক নারী ও তার শিশুকন্যা মারা যায়। খবর পেয়ে গোফলার বাজার তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ, শেরপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে শেরপুর ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।