টরন্টোর রেজা অনিরূদ্ধের বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন, ইমিগ্রেশন জালিয়াতি ও প্রবঞ্চনার অভিযোগ স্ত্রী-সন্তানের

৫ মার্চ ২০২০


টরন্টোর রেজা অনিরূদ্ধের বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন, ইমিগ্রেশন জালিয়াতি ও প্রবঞ্চনার অভিযোগ স্ত্রী-সন্তানের

কানাডার টরন্টোতে বসবাসরত রেজা অনিরুদ্ধের বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন, ইমিগ্রেশন জালিয়াতি ও প্রবঞ্চনার অভিযোগ এনেছেন ঢাকায় বসবাসরত স্ত্রী ও সন্তান। এই ব্যক্তির প্রকৃত নাম রেজাউল হক । অবশ্য বিয়ের কাবিননামায় লেখা আছে মো: রেজাউল হক। টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি নিজের পরিচয় দেন ‘রেজা অনিরুদ্ধ’ নামে। বাংলাদেশে রয়েছে তার স্ত্রী। নাম হাসিনা আক্তার নূপুর, যিনি নূপুর রেজা নামে পরিচিত। ১৯৯২ সালের ২৪ জুলাই রেজা ও নূপুরের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ঢাকার গুলশান থানার বাড্ডা কাজি অফিসের কাজী সালাহউদ্দিনের সরবরাহকৃত নিকাহনামার ডকুমেন্টসে দেখা যায় যে, এই বিয়ের দেনমোহর ছিলো তিন লক্ষ এক টাকা।  রেজাউল হকের বাবার নাম উল্লেখ করা হয় আলহাজ মো: ইসহাক মোল্লা, সাং কমলাপুর, পো: নাকোল, উপজেলা: শ্রীপুর, জেলা মাগুরা। 

এই দম্পতির একমাত্র সন্তান রাফিদ ফাইয়াজ রেজা । ডাক নাম ঋতম। মাগুরার শ্রীপুরের নাকোলের ৬ নম্বর কাদিরপাড়া  ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর সিরিয়ালের বার্থ সার্টিফিকেটে বাবার নাম লেখা রয়েছে মো: রেজাউল হক। ঋতমের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার মানারত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ২০০১ সালে। স্কুলের আইডিকার্ডে বাবার নাম হিসেবে মো: রেজাউল হক উল্লেখ আছে। ২০০৬ সালের ৬ মে হাসিনা আক্তার নূপুর নিউ দিল্লীস্থ কানাডা হাইকমিশনে অভিযোগ করেন যে, রেজাউল হক রেজা পরিবারকে না জানিয়ে কানাডা যাবার চেস্টা করছেন। রেজা’র ‘স্পাউস স্পন্সর’ হিসেবে দীল আফরোজ হেলেন এর নাম উল্লেখ করেন। এই দু’জনের পাসপোর্ট নম্বর ও ডিটেইলস হাইকমিশনে জমা দেন নূপুর। অভিযোগে নূপুর বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান প্রকৃত বিয়ে না করে কীভাবে দীল আফরোজ হেলেন রেজাকে স্পন্সর করলেন। তাকে ডিভোর্স না দিয়ে তো আরেকজনকে বিয়ে করা যায় না! এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে হাসিনা আক্তার নূপুর কানাডিয়ান হাইকমিশনে অনুরোধ জানান। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নূপুর-রেজার সন্তান রাফিদ ফাইয়াজ রেজা ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনে আরেকটি অভিযোগপত্র পাঠায় বাবা রেজাউল হক ওরফে রেজা অনিরুদ্ধের বিরুদ্ধে। এই দু’টি অভিযোগপত্র প্রতিবেদক সংগ্রহ করেছেন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নূপুর জানান, ‘রেজার কানাডা যাবার চেষ্টা প্রথম দফায় সফল হয়নি। দেশে ফিরে একটি বৃদ্ধাশ্রমে পালিয়ে ছিলেন বেশ কিছুদিন। ক্ষমা চেয়ে আমার কাছে ফেরত আসে। কিন্তু এরপর একদিন মরিশাসের একটি হোটেলে কাজ পেয়েছে বলে উধাও হয়। আমার আর সন্তানের সঙ্গে আর কোনো যোগোযোগ রাখেনি। পরে জানতে পারি দীল আফরোজ হেলেন তাকে ¯পাউস ভিসায় কানাডায় নিয়ে গেছে।’ হাসিনা আক্তার নূপুর বলেন, ‘রেজা আমাকে অফিসিয়ালি ডিভোর্স দেয়নি। আমি ডিভোর্সের কোনও চিঠি পাইনি। তাহলে আরেকজনকে বিয়ে করে কীভাবে? হয়তো সে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে কানাডায় গেছে।’ 

হাসিনা আক্তার নূপুর বলেন, ‘রেজা কানাডায় চলে যাবার পর আমার সন্তান কয়েকদিন বিছানা থেকে নামেনি। শুধু কাঁদতো। আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের ভরণপোষণের জন্যে সে কিছুই রেখে যায়নি। অসংখ্য মানুষ তার কাছে টাকা পেতো। টাকার জন্যে তারা নিয়মিত চাপ দিতো আমাদের। শেষ পর্যন্ত আমার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা সাহায্যের হাত বাড়ায়। আমার একমাত্র সন্তানকে আমি বাবা-মা’য়ের ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি। সে এখন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।’ কান্না বিজড়িত কন্ঠে নূপুর বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে রেজা যে অন্যায় করেছে তার শাস্তি চাই।’ 

অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজাউল হক রেজা ওরফে রেজা অনিরুদ্ধ ৯ ক্রিসেন্ট টাউনের একটি এ্যাপার্টমেন্টে দীল আফরোজ হেলেনের সঙ্গে বসবাস করেন। 

এই বিষয়ে রেজাউল হক ওরফে রেজা অনিরুদ্ধের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। দীল আফরোজ বেগমের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মুহূর্তে দীল আফরোজ বেগম ঢাকায় অবস্থান করছেন।

ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এন্ড সিটিজেনশীপ কানাডা (আইআরসিসি) সূত্রে জানা গেছে, কেউ যদি ইমিগ্রেশন প্রসেসে ম্যারিজ, ডিভোর্স, সেপারেশন সংক্রান্ত মিথ্যা কিংবা ভুয়া তথ্য বা ডকুমেন্টস ব্যবহার করে তাহলে সেটা ‘ফ্রড’ এর পর্যায়ে পড়ে এবং এটাকে ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশন’ বলা হয়। এই অপরাধে যেসব শাস্তির বিধান রয়েছে তা হলো- ৫ বছরের জন্যে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ফ্রড হিসেবে পারমানেন্ট রেকর্ড রাখা, কানাডিয়ান সিটিজেন বা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট রহিত করা এবং কানাডা থেকে বহিস্কার করা।

(চলবে)