পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০


পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা

শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ এক সপ্তাহেই ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়ায় দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের এ উত্থান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে গত সপ্তাহে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশের ওপর। লেনদেন বেড়েছে ৭৪ শতাংশের ওপর।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯১টির। ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৬৮ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ১১১ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের টানা উত্থানে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ২৮০ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে অপর দুটি সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ১৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের টানা পতনে ইসলামী নীতিভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত এ সূচকটি বাড়ল ৬ শতাংশ।

ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে ৫৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ২২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ হিসাবে দুই সপ্তাহের টানা উত্থানে সব থেকে ‘ভালো’ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইর এই সূচকটি বাড়ল ৭৯ পয়েন্ট।

সবকটি সূচকের এমন উত্থানের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ নয়শ’ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯০৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৫১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা বা ৭৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৫২১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৫৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৯২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ৭৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘বি’ গ্রুপের অবদান ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের অবদান ১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিমের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৩১ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ১০১ কোটি ৭১ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট পাওয়ার।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- ওরিয়ন ফার্মা, গ্রামীণফোন, গোল্ডেন হার্ভেস্ট, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং এডিএন টেলিকম।