ঘরে বসেই ফোনকলের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০


ঘরে বসেই ফোনকলের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ

ঘরে বসেই বিনা খরচে শুধু একটি ফোনকলের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ ও মামলার প্রাথমিক তথ্যসমূহ জানার ডিজিটাল সেবা প্রাপ্তি বিষয়টি ছিল এক সময় স্বপ্নের মতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপ দিয়েছেন।

২০১৬ সালে চালু হওয়া জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ (টোল ফ্রি) নম্বরে প্রতিদিন অসংখ্য নারী-পুরুষ, শিশু আইনি তথ্য সেবার জন্য কল করেন। এ পর্যন্ত একচল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষের আইনি প্রতিকার দেওয়া হয়েছে এ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে।

এছাড়া সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ও সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়ন করার লক্ষেই লিগ্যাল এইড অফিস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, বিডি লিগ্যাল এইড অ্যাপ নির্মাণ করেছেন। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে জনগণ লিগ্যাল এই্ড অফিসের সকল প্রকার সরকারি আইনি সেবা স্মার্ট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পেতে পারেন।

দেশের প্রায় ৪১.৫২ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য লিগ্যাল এইড অ্যাপ সরকারি আইনি সহায়তা প্রাপ্তির এক ডিজিটাল দরজা হিসাবে কাজ করছে। ব্যবহার করে হাতের কাছেই নিশ্চিত করা যাবে সরকারি আইনি সেবাসমূহ। সাধারণ মানুষ একইসঙ্গে সরকারের এই সেবামূলক কাজের সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের ৩ তারিখে ঢাকার একজন সিনিয়র সহকারী পদমর্যাদার বিচারক লিগ্যাল এইড অফিসার হিসাবে নিয়োজিত আছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সিনিয়র সহকারী জজ মো. আলমগীর হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘যেসব ব্যক্তি আইন আনুযায়ী সেবা পাবার অধিকারী তাদেরই এসব সেবা দেওয়া হয়। অনেকেই ঢাকা লিগ্যাল এইড অফিসে আসেন মামলা করা ছাড়াও পরামর্শ নেওয়ার জন্য।’

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বর্তমানে ইমারজেন্সি সেবা পাওয়ার জন্য ৯৯৯ নম্বরে কেউ কল দিলে সরাসরি লিগ্যাল এইডের সেবা পাওয়া যাবে না। এজন্য রয়েছে আলাদা নম্বর। আমাদের নিদিষ্ট অফিসে এসে যোগাযোগ করলে লিগ্যাল এইডের সেবা পাবেন। এছাড়া সরাসরি ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে এই নম্বরে ০১৭০০-৭৮৪২৭১ অথবা ০১৭৫৫-৮৮৯০৯০ যোগাযোগ করতে পারবেন।’

তিনি আরও জানান, ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পরে গত ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে মোট ১৬ হাজার ৩৪৪ টি মামলার ৭ হাজার ৪২৫ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে লিগ্যাল এইডের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ১৯ হাজার ৩২৮ জনকে। ওই সময়ে আইনজীবীদের লিগ্যাল এইড সহায়তা বাবদ মোট ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৯৭৮ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে সালিশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫০ টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০০৯ সালে হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৭৭ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে অপরপক্ষ থেকে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৮ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়।

নাম না প্রকাশ করতে ইচ্ছুক ছদ্ম নাম (রুনা আক্তার) সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি গত দুদিন আগে টেলিভিশন দেখার সময় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ১০৯ নম্বরটি পাই। পরে কল দিয়ে আমার সমস্যার কথা জানাতেই ওনারা আমাকে ঢাকা লিগ্যাল এইড অফিসের নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপরে আমি ওই নম্বরে কল দিয়ে আমার সমস্যার কথা জানালে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আসতে বলেন। তাই আজকে আমি এখানে আসছি।’

রুনা আক্তার তার স্বামীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ এনে সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বিয়ে হওয়ার প্রায় ৫ বছর হয়েছে। বিয়ের পরেই ঢাকা মাণ্ডা এলাকায় শ্বশুর-দেবর নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতাম। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সংসারে ঝামেলা হত। সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে আসছিলাম। কিন্তু আমার স্বামী সবকিছুর সীমানা অতিক্রম করে ফেলছে। সে চাইত আমি যেন তাকে তালাক দিই। এ জন্য নানান রকম অত্যাচার করত।’

কিন্তু এতদিনে আমি এক সন্তানের জননী ও তিন মাসের সন্তানসম্ভবা। শেষমেষ সহ্য না করতে পেরেই আমি আমার বাবার বাড়ি চলে আসি। আজকে আমার বাবাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসছি এর একটা সমাধান করতে। লিগ্যাল এইড থেকে যে ডিসিশন দিবে সেটায় মাথা পেতে নেব। আশা করি, আমার ওপর যে অন্যায় হয়েছে তার বিচার পাব।’