মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করে মামলা খেলেন নাজমুল হুদা

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০


মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করে মামলা খেলেন নাজমুল হুদা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করার অভিযোগে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ১-এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। মামলা নম্বর ৩। এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছিল দুদক। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দায়ের একটি মামলা উচ্চ আদালতে ডিসমিস করার পরও প্ররোচিত হয়ে মামলাটির রায় পরিবর্তন করা হয়। মামলাটি ডিসমিস করতে দুই কোটি টাকা ও অন্য একটি ব্যাংক গ্যারান্টির আড়াই কোটি টাকার অর্ধেক ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ চান এস কে সিনহা। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য আসে দুদকে। দীর্ঘ দেড় বছর তদন্ত করে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে দুদকে। আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করার অভিযোগে উল্টো ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধেই মামলা করল দুদক।

নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে দুদকের সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, নাজমুল হুদা যে মামলাটি করেছিলেন, সে মামলার অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। দুদক আইনের ২৮-এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দায়ের করে, আর তদন্তে যদি সেটি প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধেই মামলা করা হবে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যেহেতু অভিযোগটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে, তাই ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

দিলোয়ার বখত আরও বলেন, নাজমুল হুদা শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন। এরপর শাহবাগ থানা থেকে মামলাটি দুদকে পাঠানো হয়। পরে দুদক তা তদন্ত করে। কিন্তু অভিযোগের কোনো প্রমাণ দুদক পায়নি।

মামলায় নাজমুল হুদা গ্রেফতার হতে পারেন কি না— জানতে চাইলে দুদক সচিব বলেন, আইন অনুযায়ী যদি আদালত থেকে ওয়ারেন্ট পাওয়া যায়, তাহলে তিনি গ্রেফতার হবেন।

এর আগে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি অর্থপাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা এবং দুই মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা ও শ্রাবন্ত্রী আমিনা হুদার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করে। একটি মামলার এজাহারে বলা হয়, সিগমা হুদা ও অন্তরা সেলিম হুদা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডের সমপরিমাণ ৪ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেছেন। ওই টাকা দিয়ে ২০০৩ সালের ২৬ জুন লন্ডনের ওয়াটার গার্ডেনসের বারউড প্যালেসে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা।

অন্য মামলার এজাহারে বলা হয়, সিগমা হুদা ও শ্রাবন্তী আমিনা হুদা ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের সমপরিমাণ ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেছেন। ওই টাকা দিয়ে ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর হেলনি কোর্টের ডেনহাম রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা। অর্থাৎ বিদেশে অর্থ পাচার করে দু’টি ফ্লাট কেনার অভিযোগে নাজমুল হুদার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে মামলা করে কমিশন।