সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতায় ব্যবসায় পিছিয়ে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০


সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতায় ব্যবসায় পিছিয়ে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞায়িত  ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে বাংলাদেশের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে বিনিয়োগ অনুমোদন পেতে অনেক দিন লেগে যায়।

আরও হতাশার খবর হলো ব্যবসা-বান্ধব   পরিবেশের দিক থেকে   দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে  বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। অর্থাৎ, একমাত্র আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে রয়েছে।

আর এরকম হতাশাজনক  অবস্থা থেকে  উত্তরর  জন্য  ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন  বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

এ প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ  সম্পাদক  সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়ন ছাড়া কেবল  কিছু  আর্থিক বা প্রশাসনিক টোটকা দাওয়াই দিয়ে  দেশে বিনিয়োগ বাড়বে না। তাছাড়া , জনগণ যেভাবে সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাতে  বিষয়গুলি  আরও গভীরভাবে  বিবেচনা করতে হবে।

গতকাল  সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ  আয়োজিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)  বিষয়ক  এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা জানান, যদিও বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে গত বছর ৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। অর্থাৎ, এখনও আমরা পেছনের সারিতেই রয়ে গেছি। একই সময়ে পাকিস্তান এগিয়েছে ২৮ ধাপ ও ভারত ১৪ ধাপ।

গতকালকের  অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িরা আরো  বলেছেন,বিশ্বব্যাংকের   ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই বিদেশিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে । ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নে এই সূচকের উন্নয়ন জরুরি। এক্ষেত্রে ২০২১ সালের মধ্যে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অংকে অর্থাৎ ১০০’র নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ওএসএস আইন পাস হয়। এতে বিডা, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে কেন্দ্রীয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ৫ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে ওএসএস চালু করা হয়।

এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওএসএসের মাধ্যমে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে বিডার ১৪টি সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে- শিল্প প্রকল্প নিবন্ধন, নতুন ভিসা সুপারিশ, সংশোধিত ভিসা সুপারিশ, নতুন কাজের অনুমতি, মেয়াদ বাড়ানো, রেমিট্যান্স অনুমোদন, লিয়াঁজো অফিস খোলার অনুমতি প্রদান উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ৩৫টি এজেন্সির মাধ্যমে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫৪টি সেবা দিতে চাচ্ছে বিডা। আর এসব সেবা চালু হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন প্রমুখ।#