সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা এ বছর থেকেই

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০


সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা এ বছর থেকেই




পৃথক পরীক্ষার বদলে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য এ বছর থেকেই নেয়া হবে সমন্বিত পরীক্ষা। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকে প্রণীত বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রে এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্যও প্রযোজ্য হবে একই প্রক্রিয়া। 

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির ২৬২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও সভায় প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত লিখিত উত্তর বিশিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় প্রকাশিত শেকৃবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়, “এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হবে। নভেম্বর মাসের মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার আলোকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।”

রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে সভায় উপস্থিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সর্বসম্মতিক্রমে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে মত দেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীন আখতার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানসহ ২৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

তবে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন না উল্লেখ করে উপস্থিত একজন উপাচার্য জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় একমত কি না, এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এসব উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পৃথক পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় বলে শিক্ষার্থীদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা দিতে হয়। এছাড়াও একই বিষয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিও নিতে হয়।

তাই দুর্ভোগ নিরসনে এ ব্যবস্থার পরিবর্তে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা একইদিনে একটি মাত্র পদ্ধতিতে নেয়ার কথা ভাবছে সরকার, যাকে বলা হচ্ছে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতি।

এ পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী একবার পরীক্ষা দিলেই চলবে, প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে তাকে গুচ্ছে থাকা যে কোনও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে, যেভাবে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।