আমার গলায় লোহার শিকল ছিল: আসিয়া বিবি

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০


আমার গলায় লোহার শিকল ছিল: আসিয়া বিবি

২০১০ সালে ব্লাসফেমি আইনে দেয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়ে গতবছর থেকে ক্যানাডায় বাস করছেন পাকিস্তানের খ্রিষ্টান নারী আসিয়া বিবি৷ বুধবার তাঁকে নিয়ে ফরাসি ভাষায় একটি বই প্রকাশিত হয়েছে৷ ফ্রান্সের সাংবাদিক টোলেট ইসাবেল-আনা ‘অবশেষে মুক্ত' বইটির সহ-লেখক৷ আসিয়া বিবির মুক্তির জন্য তিনি আন্দোলন করেছেন৷ ইসাবেল-আনাই একমাত্র সাংবাদিক যিনি ক্যানাডায় অজ্ঞাত স্থানে বসবাস করা আসিয়া বিবির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন৷

গ্রেপ্তার হওয়া থেকে শুরু করে কারাগারে বন্দি জীবন ও বর্তমানে ক্যানাডায় কেমন আছেন, তা ইসাবেল-আনাকে জানিয়েছেন আসিয়া বিবি৷ তিনি ঐ সাংবাদিককে বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে গণমাধ্যম থেকে আপনি আমার সম্পর্কে জানেন৷ কিন্তু কারাগারে আমার প্রতিদিনের জীবন ও এখনকার নতুন জীবন সম্পর্কে আপনার কোনো ধারনা নেই৷''

কারাগারে তাঁকে শিকলবন্দি করে রাখা হতো বলে জানান আসিয়া বিবি৷ এছাড়া অন্য বন্দিরা তাঁকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতো বলেও জানান তিনি৷

আসিয়া বিবি বলেন, ‘‘কারাগারে আমার একমাত্র সঙ্গী ছিল চোখের পানি৷'' তিনি বলেন, ‘‘আমার গলায়... লোহার শিকল ছিল, যেটা নিরাপত্তা প্রহরীরা আংটা দিয়ে শক্ত করে দিতে পারতেন৷''

আসিয়া বিবির সঙ্গে থাকা অনেক নারী বন্দি ‘ফাঁসি! ফাঁসি!' বলে চিৎকার করতেন বলেও জানান তিনি৷ ক্যানাডায় নিরাপদ ও নিশ্চিত জীবন থাকলেও ভবিষ্যতে কখনও জন্মভূমিতে ফেরার সম্ভাবনা না থাকার বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাকে যখন বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদায় না বলেই দেশ ছাড়তে হয়েছিল তখন আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল৷''

‘‘পাকিস্তান আমার দেশ৷ আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু এখন আমি চিরদিনের জন্য নির্বাসনে,'' বলেন তিনি৷

আগামী সেপ্টেম্বরে বইটির ইংরেজি অনুবাদ বের হওয়ার কথা৷

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের জুন মাসে লাহোরের কাছে শেখুপুরা এলাকায় ফল পাড়তে গিয়ে অন্য নারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চার সন্তানের জননী আসিয়া বিবি মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে৷ ওই অভিযোগে ব্লাসফেমি আইনের আওতায় ২০১০ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷ এরপর দীর্ঘ আট বছর কারাভোগ করতে হয় তাঁকে৷

এরপর ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট আসিয়া বিবিকে মুক্তির রায় দেন৷ এরপর প্রায় ছয় মাস তাঁকে করাচিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল, কারণ কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল৷