অনেক কথা বলা যায় না, লেখাও যায় না

৩১ জানুয়ারী ২০২০


অনেক কথা বলা যায় না, লেখাও যায় না

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবু বিতর্কিতদের সরানো হয়নি। অথচ আজ যখন একজন সৎ দক্ষ সিভিল সার্জন এসে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে মানুষের মনে আশা জাগিয়েছেন তখনই তাকে বদলি!

এ বদলির নেপথ্যে সুনামগঞ্জের বিএমএ নেটওয়ার্ক থেকে উপর মহলের প্রভাবশালী, এমনকি মন্ত্রণালয়ের সিন্ডিকেট কাজ করেছে। এটা জেলার অভিভাবক পরিকল্পনা মন্ত্রীকে দেখতে হবে। অবশ্যই একজন সৎ মানুষ হিসেবে প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তাদের সুরক্ষা তাকে দিতে হবে। আশাবাদী তিনি দেবেন।

অনেক কথা বলা যায় না, লেখাও যায় না। এমনিতেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে, কথা বলতে গিয়ে কতো শত্রু। আপনজনরাও পর।অনেকের নীতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানে হলো, আমার দুর্নীতিবাজ ফাঁসলে ষড়যন্ত্র, অন্য কেউ হলে খুশি! এটা কেমন কথা?

সুনামগঞ্জে একজন ডিসি ছিলেন বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ। ভূমি অধিগ্রহণ থেকে জলমহাল, ড্রেজার বাণিজ্য, বালু, পাথর মহালে অংশীদার হতেন।তাকে সরানোর লড়াই একা করতে হয়েছে সংসদের ভিতরে-বাইরে। সুনামগঞ্জেরই উপরের প্রভাবশালী আমলারা সুরক্ষা দেন। এমনকি তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করালেও তাকে সম্মান নিয়ে বিদায় হতে আরও সাতদিন রাখা হয়। অনেক কথা বলা যায় না।

সুনামগঞ্জে একজন সৎ দক্ষ পুলিশ অফিসার গেছেন। কারও অন্যায় আবদার তদবির রাখবেন না। জানি না কবে কে কোন উপর থেকে সরিয়ে দেয়। সৎ মানুষের কথা গণমাধ্যমও বলে না। দুর্নীতিবাজের পক্ষে অনেকেই কোরাস করে। সদর থানার বর্তমান ওসিকে নিতেও সদরের এমপিকে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ও লোভ মোহের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। সৎদের সিন্ডিকেট থাকে না, তাদের খুঁজে আনতে হয়।তাদের কথা কেউ বলে না। তদবিরও করে না।

অনেক ডাক্তার নেয়া হয়, মন্ত্রণালয় থেকে বিএমএ ও নানা প্রভাবশালীদের প্রভাবে বদলি হয়ে আসেন! জনপ্রতিনিধিরাও অসহায় থাকেন।বর্তমান সমাজে অনিয়ম দুর্নীতি স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে লড়াই কতো কঠিন লড়তে গিয়ে টের পাই বারবার, তবু লড়ি। সুনামগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা সৎ দক্ষ অফিসার, তাকে হঠাৎ বদলি! এটা রাখতে সদরের এমপি সবখানে ছুটেছেন। শিক্ষকরা তার কাছে গিয়েছিলেন রাখতে। এ নিয়ে একজন বড় কর্তা যিনি আমার ঘনিষ্ঠ তার সাথে হটটক হয়!

মানুষ যদি সব দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও লড়াইকে সমর্থন না দেয় তাহলে জয়ী হওয়া শুধু কঠিনই না, হেরে যাবার শঙ্কাই বেশি। দুর্নীতিবাজরা ও তাদের সিন্ডিকেট সংখ্যায় কম কিন্তু সুসংগঠিত, নেটওয়ার্ক অনেক দূর। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ সৎ মানুষরা অসংগঠিত। সৎ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। অনেকে দুর্নীতিবাজদের পাশে নির্লজ্জের মতোন দাঁড়ান, সৎ মানুষের ইনিয়ে বিনিয়ে ত্রুটি খুঁজেন। এসব ছাড়তে হবে। খোলামনে নীতিগত জায়গায় দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে জনগণের প্রতিনিধি দরজায় থাকেন, সেবক হন। কিন্তু আমলা চক্র ক্ষমতাধর সিন্ডিকেটে শাসক হয়ে নেপথ্যে অনেক গণবিরোধী কাজও করেন। লেখক: বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন