চীন থেকে ফিরিয়ে আনতে ৩৭০ বাংলাদেশির তালিকা প্রস্তুত

৩০ জানুয়ারী ২০২০


চীন থেকে ফিরিয়ে আনতে ৩৭০ বাংলাদেশির তালিকা প্রস্তুত

চীনা কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির আগে চীন থেকে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে চীন থেকে ফিরতে আগ্রহী ৩৭০ বাংলাদেশি নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'উহান সিটিসহ চীনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৩৭০ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নিবন্ধিত করা হয়েছে। তবে চীন সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত আনা সম্ভব হবে না। চীনা কর্তৃপক্ষের এই বিধিনিষেধের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। কারণ ঝুঁকি এড়াতেই চীনা কর্তৃপক্ষ এই বিধিনিষেধ জারি করেছে।'পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনে বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে উহানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ। প্রত্যেকের নাম ও টেলিফোন নম্বর এবং ই-মেইল অ্যাড্রেস দূতাবাসের সংগ্রহে রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দূতাবাস কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে দূতাবাসের সঙ্গে এবং করোনাভাইরাস সংক্রান্ত পরিস্থিতির হালনাগাদ অবস্থা জানা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, সর্বশেষ চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির আগে উহানে অবরুদ্ধ অবস্থার ব্যাপারে নির্দেশনা জারি থাকবে। এ কারণে ৬ ফেব্রুয়ারির আগে কাউকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের এখন পর্যন্ত কারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালগুলোতে আগাম সর্তকর্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সমকালের প্রতিনিধিরা।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আগাম সতর্কতার প্রস্তুতি হিসেবে দুটি বিশেষ ইউনিট খোলা হয়েছে। এ জন্য তিনজন চিকিৎসককে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, এই তিন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিতে আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় যাবেন।

দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ। ছুটি শেষে চীন থেকে খনিতে ফেরত আসা এক কর্মকর্তা ও দুই শ্রমিককে খনি অভ্যন্তরে তাদের নিজস্ব হাসপাতালে আলাদাভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে চিকিৎসক এসে তাদের পরীক্ষা করার পর ভাইরাস পাওয়া না গেলে তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হবে। এ খনিতে প্রায় পাঁচশ' চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করছেন।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভোমরা স্থলবন্দরে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের চিকিৎসকের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সতর্ককতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হোসাইন শাফায়েত বলেন, 'স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।' আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, 'নতুন এই ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সঠিক ধারণা দিয়ে সচেতন করা গেলে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।'

টেকনাফ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ উপজেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্তে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে টেকনাফ বন্দরে আসা মাঝিমাল্লাদের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, নাকুগাঁও স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তে মেডিকেল টিম কাজ শুরু করেছে। শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আনোয়ারুল রউফ জানান, ডা. ফাহমিদা আক্তার ও ডা. নুসরাত তামান্নার নেতৃত্বে ছয়জনের একটি টিম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আলাদাভাবে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে গমনাগমনরত যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।