‘চীনে আমরা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে আছি’

২৮ জানুয়ারী ২০২০


‘চীনে আমরা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে আছি’

চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনের উহান শহর থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আার এ উহান শহরে ৩’শ এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানিয়েছেন।  

উহানে আটকা পড়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা।  উহানে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তাহকিম আনজুম মৃদুলা নামে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউনিভার্সিটিতে আমরা ১২৭ জনের মতো বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী আছি। আমাদের যেন এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ উহানই এখন সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসের শিকার হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ডরমিটরির বাইরে একেবারেই যাওয়া নিষেধ। আমরা টোটাল লকডাউনের (পুরোপুরি অবরুদ্ধ) মধ্যে আছি। আমাদের খাবারের সংগ্রহ খুবই সীমিত। মাস্ক না পরে, এমনকি রুমের বাইরে পর্যন্ত যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একটা আতঙ্ক কাজ করছে আমাদের মধ্যে। বাতাসে বেরিয়ে আমরা না আবার এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হই।’

দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে তাহকিম আনজুম মৃদুলা বলেন, ‘দেশে মা-বাবা খুবই চিন্তিত। তারা চাইছেন আমরা দেশে ফিরে যাই। আমরা দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। অপেক্ষায় আছি কখন একটা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আমরা সবাই দেশে ফিরে যেতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।’

রাকিবিল হাফিজ নামে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া এক ছাত্র বলেন, ‘আজ কয়েকদিন ধরে এই ডরমিটরিতে আমরা অবরুদ্ধ। শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছি। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলের মতো।৫’শ এর মতো বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী আছে এখানে। আমরা বাংলাদেশিরা ছাড়াও আছে রাশিয়া, কাজাখাস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত, পাকিস্তান থেকে শুরু করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ছেলে-মেয়েরা।’

অবরুদ্ধ অবস্থায় খাবার সংকটেও পড়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝখানে আমাদের খাবার পর্যন্ত ফুরিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন। ইউনিভার্সিটি এই মূহুর্তে বন্ধ, চাইনিজ লুনার ইয়ারের ছুটি। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে খোলার কথা, কিন্তু শোনা যাচ্ছে এটি পিছিয়ে যেতে পারে।’

বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে হাফিজ বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা সব তথ্য নিয়ে আমাদের তালিকাভুক্ত করছেন। এখানে যারা মাস্টার্সের ছাত্র, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস যোগাযোগ করছে। তাদের কাছে আমাদের টোটাল সংখ্যা জানতে চেয়েছে। কত ছাত্র-ছাত্রী এখন আমরা এখানে আছি।’