‘একদল ইঁদুর-উইপোকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে ব্যস্ত’

২২ জানুয়ারী ২০২০


‘একদল ইঁদুর-উইপোকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে ব্যস্ত’

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: উন্নয়নের অনুষঙ্গ হিসেবেই দেশে দুর্নীতি-লুটপাটের দৌরাত্ম্য দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যখন দিনরাত খেটে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তখন একদল ইঁদুর-উইপোকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ লুটে ব্যস্ত, এমন মন্তব্য করেছেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

এদের সাথে হাত মিলিয়েছে কিছু দুর্নীতিবাজ অফিসার। কিছু অসৎ রাজনীতিক অন্যান্যরা। লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দেশের সম্পদ রক্ষা করতে হবে, যোগ করেন তিনি।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাতে একাদশ সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শিরিন আখতার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এদের (দুর্নীতিবাজ) শায়েস্তা করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান আরও জোরদার করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে কালো টাকার মালিক, লুটেরা-দুর্নীতিবাজরা টাকার গরম দেখাতে না পারে। আর বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি এখনও বন্ধ করা যাচ্ছে না, ফলে পণ্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সুশাসন নিশ্চিত করাই হোক আমাদের প্রধান জাতীয় কর্তব্য।

শিরীন আখতার বলেন, দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়ার পরেও দেখতে পাচ্ছি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারছি না। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এখনো কোনভাবে বন্ধ করতে পারিনি। স্থিতিশীল রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগের সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সমাজতন্ত্র রয়েছে। সমাজতন্ত্রে পরিকল্পিত অর্থনীতির কথা বলে। মুক্তবাজার অর্থনীতির থাবাতে দানবের হাতে দেশের মানুষের ভাগ্য ছেড়ে দিতে পারি না। তাই আজকে আমরা সমাজতন্ত্রের পথেই হাঁটছি। কিন্তু লক্ষ্য করছি কিছু কিছু মন্ত্রী-এমপি, রাজনীতিক, সচিব অনেকেই সমাজতন্ত্রের কথা বলতে লজ্জা পান। এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবেন আর সমাজতন্ত্রের কথা বলবেন না, দুটো একসঙ্গে চলবে না। একদিকে সংবিধান মানবেন, রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির কথা মানবেন নাএটা তো হতে পারে না। সমাজতন্ত্র উচ্চারণ করতে কোনভাবে লজ্জিত হবার কারণ নেই।

শিরীন আখতার আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ; এগুলো সম্পর্কে আমাদের যত্নবান হতে হবে। যদি মূলনীতির উৎসস্থল হারিয়ে ফেলি স্বাভাবিকভাবে আদর্শচ্যুত, লক্ষ্যচ্যুত হব।