সিটি ভোট পেছানোর দাবিতে ঢাবিতে অনশন চলছে

১৭ জানুয়ারী ২০২০


সিটি ভোট পেছানোর দাবিতে ঢাবিতে অনশন চলছে

পুরো শহর যখন শীতের চাদরে ঢাকা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী। সরস্বতী পূজার কারণে আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে তাদের এই অনশন কর্মসূচি চলছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতেও শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র বরুণ কুমার সাহা সারাবাংলাকে বলেন, সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ আসলে কোনোভাবে মানা যায় না। আমরা এর প্রতিবাদে আন্দোলন করে যাচ্ছি। ১৪ জানুয়ারি রিট খারিজ হওয়ার পর আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাস্তা অবরোধ করার মতো আন্দোলন থেকে আমরা সরে এসেছি। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর থেকে আমরা অনশন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

তিনি বলেন, সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা আসলে এক ধরণের খামখেয়ালিপনার প্রকাশ। তিথি মতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা হয়ে থাকে আর সেই হিসেবে আমাদের পূজার দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের পরে। আর তাই ৩০ তারিখ সকালেই পূজা শুরু হবে মূলত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যেভাবে বললো একসঙ্গে নির্বাচন ও পূজা করার কথা তাতে অবাক হয়েছি। কারণ সরস্বতী পূজা হয়ে থাকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সেইসব প্রতিষ্ঠানেই, যেখানে আগের দিন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আর এমন অবস্থায় কিভাবে পূজা করার কথা বলে তা বোধগম্য না। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা এ আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল সংসদ শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) উৎপল বিশ্বাস বৃহস্পতিবার বিকেলে সারাবাংলাকে বলেন, ৩০ জানুয়ারি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা পালনের দিন। একই দিনে নির্বাচন কমিশন দুই সিটির ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে। ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে আমরা গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। এর মধ্যে শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলনও করেছি। বুধবার নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রাও করেছিলাম। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সামনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা আটকে দেয়।

‘নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সবার একটাই দাবি ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা হোক।’ যোগ করেন উৎপল বিশ্বাস।

উৎপল বিশ্বাস আরও বলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। দেখা যাক কি হয়। এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব।’

জগন্নাথ হল সংসদ শাখার সাধারণ সম্পাদক (জিএস) কাজল দাস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। আমরাও আছি অনশনে। নির্বাচন কমিশন অফিসিয়ালি জানিয়েছে, তাদের পক্ষে নির্বাচন পেছানো সম্ভব নয়। তারপরও আমরা নির্বাচন কমিশনকেই জানাতে চাই, একই দিনে ভোট আর পূজা হতে পারে না। তাই সকল দিক বিবেচনায় ভোট গ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করা হোক।

গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহবাগ চত্বর থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ পেছাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ১৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার মধ্যে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা না হলে তারা ইসি অভিমুখে যাত্রা করে। পরে পুলিশের বাধায় শাহবাগ মোড়েই অবস্থান নেয় তারা। ওই দিন শাহবাগ মোড়ে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভের পর ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। সেই ধারবাহিকতায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে বৃহস্পতিবার রাতভর অবস্থান কর্মসূচি চলেছে।