শাহবাগে আন্দোলনরত ঢাবি ছাত্রের বুকে পিস্তল ঠেকাল প্রবাসী

১৫ জানুয়ারী ২০২০


শাহবাগে আন্দোলনরত ঢাবি ছাত্রের বুকে পিস্তল ঠেকাল প্রবাসী

ঢাকা সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে, আজও শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নির্বাচন কমিশন অভিমুখে শিক্ষার্থীদের পদযাত্রায় পুলিশ বাধা দিলে শাহবাগেই অবস্থান নেন তারা।এ সময় অবরোধের কারণে সৃষ্ট যানজটে আটকে পড়া এক ব্যবসায়ী ‘বিরক্ত’ হয়ে এক শিক্ষার্থীর বুকে পিস্তল তাক করেন। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে শাহবাগ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই ব্যবসায়ীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, অবরোধের সময় ওই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাকে বাধা দেন। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে পকেট থেকে পিস্তল বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র কপিল দেব বর্মণের বুকে তাক করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আজিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, পিস্তল তাক করে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার একটি মৌখিক অভিযোগ তারা পেয়েছেন। মারধরের ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। তার গাড়ি থেকে একটি শর্টগান ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

শাহবাগ থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, গণপিটুনির শিকার ওই ব্যক্তির নাম আসিফ রশিদ খান। দুবাইপ্রবাসী এই ব্যক্তি পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর পিস্তল ও শর্টগান দুটি লাইসেন্স করা। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় বিরক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে তার গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে যান। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি। এর মধ্যেই তিনি পকেট থেকে পিস্তল বের করে এক শিক্ষার্থীর বুকে তাক করেন।