মানুষের প্রশ্ন মজনু আসল ধর্ষক নাকি জজ মিয়া নাটক: ভিপি নুর

৯ জানুয়ারী ২০২০


মানুষের প্রশ্ন মজনু আসল ধর্ষক নাকি জজ মিয়া নাটক: ভিপি নুর

ধর্ষক মজনু গ্রেফতারের ঘটনা মানুষের মধ্যে স্বস্তির বদলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কতটুকু অনাস্থা থাকলে, মানুষ অপরাধীকে ধরা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। মানুষ প্রশ্ন তুলেছে এটি আসল ধর্ষক নাকি ‘জজ মিয়া নাটক’।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পদযাত্রা কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। নুর বলেন, আমরা জানি না কে আসল ধর্ষক। ধরে নিচ্ছি সেই প্রকৃত অপরাধী, কিন্তু দেশের জন্য এটি এলার্মিং যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দিন দিন এভাবে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে সরকারকেই। আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম ধর্ষককে গ্রেপ্তার করার জন্য। এসময়ের মধ্যে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করায় ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় ভিপি নুর ছাত্রী হলে শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে একজন শিক্ষিকা ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের দ্বারা লাঞ্চিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে কিন্তু কোনো জোরালো প্রতিবাদ হয়নি। আমরা দেখি যখন কোনো ঘটনা নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ হয়, যখন ছাত্র জনতা রাজপথে নেমে আসে, তখন প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে, সরকার হার্ডলাইনে থাকে। যখন প্রতিবাদ শেষ হয়ে যায়, সেই ঘটানোগুলো আড়ালে চলে যায়।

ছাত্র সমাজকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, আজকে দেশে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। এর জন্য রাষ্ট্র নিজেও দায়ী। কারণ রাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইন আদালত ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে অনেকে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। সে কারণে এ ধরনের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আমরা শুধু দু-একটি ঘটনার প্রতিবাদ করলে কাঙ্খিত পরিবর্তন ঘটবে না। নারী নিপীড়নসহ সমাজের সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

পরে আন্দোলনকারীরা ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পদযাত্রা করেন। গণপদযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে স্মৃতি চিরন্তন, কলাভবন হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে মিলিত হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ফারুক হাসান, মশিউর রহমান ও মো. বিন ইয়ামীন মোল্লাসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।