ফেসবুক থেকে দূরে রাখুন দাম্পত্যজীবনের খুঁটিনাটি

৫ জানুয়ারী ২০২০


ফেসবুক থেকে দূরে রাখুন দাম্পত্যজীবনের খুঁটিনাটি


মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটাই এখন উঠে এসেছে ফেসবুকে। ছুটির দিনে দুপুরে বানানো স্পেশাল লাঞ্চ থেকে শুরু করে সদ্য কেনা নতুন ড্রেস, সবকিছুর ছবিই আমরা শেয়ার করি ফেসবুকে। কিন্তু ফেসবুকে ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করার আগে একটু সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে অনেক সময়ই জীবনে অশান্তি আসতে পারে। 

আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অন্যের সুখ দেখে হিংসাবোধ করেন। আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদেরকে উৎসাহিত করবে। আবার আপনার বন্ধু তালিকায়েএমন অনেক মানুষও হয়তো আছেন, যারা ব্যক্তিগত জীবনে একাকী-নিঃসঙ্গ। আপনার ছবি তাদের মনে দুঃখবোধ জাগিয়ে তুলবে।

দেখুন কিভাবে ছবি শেয়ারে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়:

১. বেডরুমের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করবেন না :

শোওয়ার ঘর কিন্তু আপনাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা। বেডরুমে তোলা সেলফি বা ঘুমন্ত সঙ্গীর ছবি ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে সেটা খুবই গ্রাম্যতা প্রকাশ করে। 

২. দাম্পত্যজীবনের খুঁটিনাটি শেয়ার করবেন না :

স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বেশি কথা না বলাই ভালো। সংসারের সব গল্পের ঝুলিও ইন্টারনেটে উজাড় করবেন না। আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য সোশাল মিডিয়ায় চলে গেলে আপনাদেরই সমস্যা হতে পারে।

৩. পরস্পরকে দেওয়া প্রতিটি উপহারের ছবি শেয়ার না করলেই নয়? :

সারাক্ষণ যদি এ সব ছবি পোস্ট করতে থাকেন, তা হলে মনে হতে পারে আপনি কিছু একটা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। বিবাহবার্ষিকী বা এনগেজমেন্টের মতো বড়ো ঘটনার বাছাই করা ছবি পোস্ট করতেই পারেন, তবে বাড়াবাড়ি যেন না হয়!

৪. দাম্পত্যকলহের কথা সোশাল মিডিয়ায় নয় :

পারিবারিক অশান্তির কথা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা মানে আরও বড়ো বিপর্যয় ডেকে আনা। সঙ্গীর কোনও কাজ আপনার অপছন্দ হলে সেটা নিয়ে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। একইভাবে বন্ধু বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামত প্রয়োজন হলে সেটাও সাক্ষাতে আলোচনা করুন, সোশাল মিডিয়া মারফত নয়!

৫. নিজেদের ব্যক্তিগত সময়গুলোকে ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করুন :

নিজেদের একান্ত মুহূর্তুগুলো ব্যক্তিগত রাখতে চেষ্টা করুন। শুধু বেডরুম নয়, আপনারা দুজন মিলে হয়তো কোথাও বেড়াতে গেলেন, কোথাও খেতে গেলেন। সেখানকার সব ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার আসলে তো কোনো প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের সাথে আপনার যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত শুধু লাইক-কমেন্টের আশায় শেয়ার করার কোনো অর্থ নেই।