ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আশঙ্কা : মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ছাড়ার নির্দেশ

৩ জানুয়ারী ২০২০


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আশঙ্কা : মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের বাগদাদে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের এলিট কুর্দস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিসহ কমপক্ষে ৮ জনকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ‘কঠোর ও ভয়াবহ’ প্রতিশোধ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এমন ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর মানুষদের হাতে নিহত হয়েছেন ইরানের সম্মানিত কমান্ডার, যিনি সাহসীকতার সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে বিশ্বের শয়তান ও দস্যুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।’

এর আগে সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর হুমকি নিয়ে শুরু হয়েছে গভীর উদ্বেগ। আর তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিককে ইরাক ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস।

শুক্রবার বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরাক ও এ অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার কারণে আমেরিকান নাগরিকদের জানুয়াতিতে ইরাক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থানরত সকল মার্কিনীদের সত্ত্বর সে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।’

ওই বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের সম্ভব হলে বিমানের মাধ্যমে ইরাক ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। আর এতে ব্যর্থ হলে তাদের স্থলপথে অন্য দেশে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘মারাত্মক বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় জাভেদ জারিফ এ কথা বলেন।

জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনযিয়া বলেছেন, এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপসাগরে বৃহত্তর কোনো সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাশিয়া খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং আশপাশে এমনিতেই অনেক সমস্যা। সুতরাং নতুন একটি সমস্যা ওই অঞ্চলে সর্বনাশ ডেকে আনবে। রাশিয়া চায় যে কোনো মূল্যেই যেন যুদ্ধ এড়ানো যায়।