আমি কি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হব : মজা করলেন প্রধানমন্ত্রী

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯


আমি কি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হব : মজা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিকের ভয় কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বই উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বই শিক্ষার্থীদের বছরের শুরু থেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী করে তোলে। শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন বই নেয়ার সময় মজা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হব?  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গণভবনে তার কাছে ফলাফল হস্তান্তরের পর এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে এই দু’টি পরীক্ষা শিশুদের মাঝে আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। এর ফলে এসএসসি পরীক্ষার ভীতি কাটছে। প্রাথমিক পরীক্ষার একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে, আবার অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর আরেকটা পাচ্ছে, এতে কি হচ্ছে তাদের মধ্যে পরীক্ষার ভীতি কাটছে। যেকোনো সার্টিফিকেট বাঁধায়ে রাখলে নিজের মনের মধ্যে একটা সাহস জাগে। ফলে এসএসসি পরীক্ষার সময় যে ভয়টা থাকে সেটা কাটিয়ে ওঠা যায়।

নিজের এসএসসি পরীক্ষার অজ্ঞিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন নিজে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন ভয় পেয়েছিলাম। বোর্ড পরীক্ষা প্রথম কি হবে না হবে। এখনকার বাচ্চাদের সে ভয় লাগে না। কারণ আগে থেকে এসব পরীক্ষা দিয়ে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জেগেছে।

শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাছ থেকে নতুন বই নেয়ার সময় মজা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হব।  তিনি আরও বলেন, আগে পুরনো ছেঁড়া জীর্ণ বই হাতে দেয়া হতো, অনেকের আবার বই কেনার ক্ষমতা ছিল না বাবা মার, বা কিনতে পারত না, এখন আর সেটা নেই। সকলের জন্য নতুন বই। আসলে নতুন বই হাতে পেলে ভালোও লাগে শিশুদের তাকিয়ে এ কথা বলেন। সরকারপ্রধান হেসে হেসে বলেন, নতুন বইয়ের ঘ্রান পেতে ভালো লাগে, আবার নতুন বইয়ে মলাট লাগাতে হবে, নামটা লিখতে হবে অনেক কাজ থাকবে। সেই কাজগুলো সকলে মিলে করা হবে তাই না।      

এরপর একে একে প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, শিক্ষার আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে তার সরকার। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নতুন বছর এবং বই উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বই শিক্ষার্থীদের বছরের শুরু থেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী করে তোলে।

শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের নিয়ে গণভবনের মাঠে যান। এ সময় শিশুরা দুরন্ত গতিতে মাঠে প্রবেশ করে। পরে প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের সাথে মাঠে যান ও তাদের সাথে খেলায় মেতে উঠেন।

এদিকে দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন।

এবার সারাদেশে জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এই হিসেবে গতবারের চেয়ে এবার বেড়েছে ২.০৭ শতাংশ।

এছাড়া এবার জেএসসি-জেডিসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৯ জন শিক্ষার্থী। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৯৫ জন। গেল বারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে ১০ হাজার ৩৩৪ জন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার কিছু আগে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ ফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।