তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি

৩০ ডিসেম্বর ২০১৯


তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি

হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। গেল তিন দিন পর আজ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। সোমবার সকাল নয়টায় তেতুঁলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। হাড়কাপাঁনো শীত অনুভব করছে পঞ্চগড়বাসী। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত প্রচণ্ড শীত।  এর আগে রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তেঁতুলিয়ায় কুয়াশা ও হিমালয়ের হিম বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শীতের প্রভাবে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, রোববার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা সোমবার সকাল ৬টায় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে গিয়ে পৌঁছায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ থেকে ১৭ ডিগ্রিতে। দিনে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তীব্রতা নেই। প্রতিদিন উত্তরের হিমেল বাতাসে ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। তবে দিনের তুলনায় রাতে বাড়ছে শীতের তীব্রতা।

গত বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু সকাল ৯টার দিকে তাপমাত্রা কমে ৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। তাপমাত্রা যে পর্যায়ে নেমেছে, তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে ধরা হয়। গত বুধবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ২, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় জেলার হাসপাতালগুলোতে দিন দিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে দরিদ্র শীতার্তদের জন্য প্রথম দফায় প্রায় ৩০ হাজার শীতবস্ত্র পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে।  চাহিদার তুলনায় যা অপ্রতুল। পঞ্চগড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পাথর শ্রমিক আছে। প্রায় দুই লাখ ছিন্নমূল দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ আছে। এখনও পঞ্চগড়ের সকল দুঃস্থ অসহায় ছিন্নমূল মানুষেরা শীতবস্ত্র পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।