বছর জুড়ে অস্থির পুঁজিবাজার; নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

২৮ ডিসেম্বর ২০১৯


বছর জুড়ে অস্থির পুঁজিবাজার; নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমন্দা অবস্থা চলছে। চলতি মাসেই তিন বছর আগের অবস্থানে নেমে আসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক। বছর জুড়েই ছিলো উঠানামা, দোলাচলে ছিলেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও। প্রধান সূচক ৫ হাজারের নিচে নামবে না, বিএসইসি এমন ঘোষণা দিলেও বর্তমানে সাড়ে চার হাজার পয়েন্টের নীচে অবস্থান করছে। অথচ দু’বছর আগে এটি ছিলো ৬ হাজার ৩ শ পয়েন্টের ওপরে।

গেলো সপ্তাহের শেষদিনে সূচকের কিছুটা উন্নতি হলেও সপ্তাহ কেটেছে ওঠানামার মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার আগের দিনের চেয়ে ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়ায় চার হাজার ৪১৮ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে দাম বাড়ে ২০৪ টির, কমেছে ৯২টির আর অপরিবর্তিত ছিলো ৫৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থার কারণে সরে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আস্থা সঙ্কটসহ নানা কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে অনেক কোম্পানিও গুটিয়ে নিচ্ছে ব্যবসা। তিন বছরে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন ছয় লাখের বেশি বিনিয়োগকারী।

বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজার বটম আউট হয়ে গেছে অর্থাৎ দর পড়তে পড়তে সর্বনিম্ন স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে, ভালো কোম্পানি আসছে না। সম্প্রতি গ্রামীণফোন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশিয় বড় বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে দরপতনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে গেছে পুঁজিবাজার। এমন পরিস্থিতিতে নানা ধরনের সহায়তা আসতে শুরু করবে। এতে নতুন বছরে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন তিনি।

নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন আহমেদ রশিদ লালী। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হলে অর্থের জোগান এমনিতেই বেড়ে যাবে। বড় বড় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনা, সরকারি প্রণোদনার অর্থ শুধু আইসিবিকে না দিয়ে সব স্টেক হোল্ডারদের সম্পৃক্ত করাসহ নানা পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন। যারমধ্যে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩১২ জন। এতে প্রবাসীর সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৯জন। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৩ হাজার ৩৪টি। ২০১৬ সালের ২০ জুন মোট বিনিয়োগকারী ছিলেন ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৩।