ডাকসু ভবনে হামলা : অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে সুহেল

২৫ ডিসেম্বর ২০১৯


ডাকসু ভবনে হামলা : অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে সুহেল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গেট বন্ধ করে ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের ওপর ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ পি এম সুহেলকে মাথায় অস্ত্রোপচারের পর আইসিইউতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত রোববার ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হকের কক্ষে হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা। সেই ঘটনায় নুরুলসহ তাঁর সংগঠনের ২৪ জন নেতা-কর্মী আহত হন। এ পি এম সুহেলকে ডাকসু ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্র বিন ইয়ামিন মোল্লা মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার পর বলেন, ‘এ পর্যন্ত দুইবার সুহেলের মাথায় সি. টি. স্ক্যান করানো হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে সার্জারি হওয়ার পর এখন তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে তথ্য মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তা সত্য নয়। জনগণ যাতে আসল তথ্য জানতে না পারে, তারা সেই চেষ্টা করছে। কারণ জনগণ আসল তথ্য জানলে ক্ষুব্ধ হবে। আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে।

রোববার হামলায় আহত ২৪ জন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। এখন পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাঁরা হলেন ভিপি নুরুল হক, তুহিন ফারাবী, মেহেদী হাসান, আমিনুর ও নাজমুল ইসলাম।

এদিকে, এ হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ৩৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভিপি নুর। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৪০-৫০ জনকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নুরের পক্ষে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

এছাড়া নুর ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতা আল মামুন, ইয়াসির আরাফাত তূর্য ও মেহেদী হাসান শান্তকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সর্দার প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড চান। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।