আদর্শিক সংগঠন বলেই আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী

২০ ডিসেম্বর ২০১৯


আদর্শিক সংগঠন বলেই আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী

আদর্শিক সংগঠন বলেই বার বার আঘাত করা সত্বেও আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে। এদেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা বলেন, দলের আদর্শ ধরে রেখে সবাইকে রাজনীতি করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাদের আদর্শ।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যিনি ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তিনিই সফল হবেন। আর এই কাজটা আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি করেছে। এর জন্যই জনগণ কিছু পেয়েছে। এদেশের মানুষের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে বার বার। জাতির পিতাকেও কতবার হয়রানি করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা হয়েছে, ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তারপরও তিনি সততার সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন বলেই বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। আওয়ামী লীগকে শেষ করার অনেক চেষ্টা হয়েছে। যখনই আঘাত এসেছে, সবার আগে এসেছে আওয়ামী লীগের ওপরই। কিন্তু জাতির পিতার হাতে গড়া এই সংগঠন ধ্বংস করতে পারেনি কেউই।

এরআগে, বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে দুইদিনের সম্মেলন উদ্বোধন করেন  তিনি। কাউন্সিলে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের বর্তমান দপ্তর সম্পাদক ডক্টর আব্দুস সোবহান গোলাপ। আর দলীয় প্রতিবেদন পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর, ১৫হাজার ডেলিগেটসহ ৫০ হাজারের বেশি অতিথি অংশ নেন। ২১তম এ কাউন্সিলকে সামনে রেখে মৎস্য ভবন এলাকা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নেয়।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে কাউন্সিলস্থল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ খুলে দেয়া হয়। দলে দলে আসতে থাকেন সারাদেশ থেকে আসা এসব নেতাকর্মী। কাউন্সিল মঞ্চে পরিবেশন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অর্জনে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এ সম্মেলন শেষ হবে। দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বসবে কাউন্সিল অধিবেশন। ওই অধিবেশন থেকে দলের পরবর্তী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে।