মদপানে তিন কিশোরের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩ জন

১২ ডিসেম্বর ২০১৯


মদপানে তিন কিশোরের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩ জন

কুষ্টিয়ায় মদপানে তিন কিশোর হাসপাতালে মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ আরও তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে শহরের এনএস রোড সংলগ্ন পাবলিক মাঠ চত্বরে তারা পান করেন। নিহত তিনজন হলেন, জিহাদুর রহমান সাজিদ(২০), ফাহিম হোসেন (২১) ও পাভেল ইসলাম। এদের মধ্যে জিহাদুর রহমান সাজিদ বিকেএসপি’র বাস্কেট বল খেলোয়ার। তিনি শহরের আমলাপাড়া এলাকার মৃত মফিজ রহমানের ছেলে। ফাহিম হোসেন থানাপাড়া এলাকার সাগর হোসেনের ছেলে ও পাভেল একই এলাকার আরমান ইসলামের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বন্ধু ফাহিমের জন্মদিন উপলক্ষে সাজিদ(২১), পাভেল(২৩), সুরুজ(২০), শান্তি(২২) ও আতিকুল(২৩) বিকেলে শহরের পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে স্পিড এনার্জি ড্রিংক এর সাথে মদ মিশিয়ে সেবন করেন। সেবনের কিছুক্ষণ পরে অস্থিরতা অনুভব করলে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজিদ, ফাহিম ও পাভেল মারা যান।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল(আরএমও) অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, বিকেলে ছয় বন্ধু একসাথে হাসপাতালে এসে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানায় যে ডিম খাওয়ার পর থেকে তাদের মাথা ঘুরছে, শরীরের ভেতর অস্থির লাগছে। ব্যাপারটি সন্দেহ মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা চিকিৎসককে স্পিড ক্যানের সাথে মদ মিশিয়ে সেবনের বিষয়টি জানায়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান।

সুরুজ নামে একজনকে গুরুত্বর অসুস্থ্ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নিহত সাজিদের মামা পিয়াস জানান, গত মাসে ভাগ্নে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিল। সে বিকেএসপির বাস্কেট বল খেলোয়ার ও নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এরা সবাই কিশোর। মদ জাতীয় দ্রব্য তারা কোথায় পেল বা কে বিক্রয় করলো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।