সংঘাত এড়াতে পূর্বনির্ধারিত র‌্যালি বাতিল করেছে বিএনপি: ফখরুল

১০ ডিসেম্বর ২০১৯


সংঘাত এড়াতে পূর্বনির্ধারিত র‌্যালি বাতিল করেছে বিএনপি: ফখরুল

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আজকে বিএনপি’র পূর্বনির্ধারিত র‌্যালি পুলিশী বাধার কারণে অনষ্ঠিত হতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপিকে সড়কে নেমে র‌্যালি করতে নিষেধ করা হয়। র‌্যালি করতে না দেওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, এই মুহূর্তে বিএনপি কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। এ কারণে তারা তাদের কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আমরা একটি র‌্যালি করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের বলা হয়েছে নিচে নামলেই ব্যবস্থা নেবে। আমরা এই মুহূর্তে কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না। তাই র‌্যালি করিনি। আমরা আমাদের অধিকারের কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি। জনসভা করতে গেলে অনুমতি নিতে হয়। সভা করতে দেওয়া হয় না। এমনকি সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলোও করতে দেওয়া হয় না। ’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে এখন প্রতিমুহূর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ১০ বছরে দেড় হাজারের বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির হিসাবে তা ২ হাজারের বেশি। এক লাখের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দেওয়া হয়েছে। এখন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে যে ব্যক্তি ভিন্ন মত পোষণ করেন, তাঁকে হয় গ্রেপ্তার করা হয়, না হয় গুম করা হয়। অনেক নেতা, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক গুম হয়েছেন। তিনি দাবি করে বলেন, পাকিস্তান আমলের চেয়েও গত ১০ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। জাতিসংঘ থেকে বারবার বাংলাদেশকে ডাকা হয়েছে। চার বছর আগে মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল, তার একটিও রক্ষা করেনি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক, বিদেশে নারী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, কিন্তু সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও অন্য দেশ সোচ্চার হলেও বাংলাদেশ সরকার কোনো ভূমিকা নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ।