'আমার কর্মীর গায়ে আচড় দিয়ে কেউ আরামে ঘুমাতে পারবে না'

৭ ডিসেম্বর ২০১৯


'আমার কর্মীর গায়ে আচড় দিয়ে কেউ আরামে ঘুমাতে পারবে না'

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খেলা যদি ওই পর্যায়ে যায় তাহলে ডাক দিলে ফতুল্লার নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছেন। নারায়ণগঞ্জে মাটিতে কিন্তু মাটি দেখা যাবে না, শুধু মাথা দেখা যাবে। ক্ষমতার দম্ভে বলি না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, শামীম ওসমান থাকতে নেতাকর্মীদের উপর আঘাত করবে আর তাতে নারায়ণগঞ্জ শান্ত থাকবে এটা যদি কেউ মনে করে তার মত বোকার রাজ্যে আর কেউ বাস করেনা। আমার জীবন থাকলে আমার কর্মীর গায়ে একটা আচড় দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ১ ঘণ্টা কেউ আরামে ঘুমাতে পারবেনা। আমি আওয়ামীলীগের একজন সাধারণ কর্মী আমার কথা কেউ হালকা করে নিবেন না। ডাক দিলে তখন সবাই এগিয়ে আসবে। তখন নারায়ণগঞ্জের মাটিতে শুধু মাথা দেখা যাবে। সুতরাং ওই খেলা খেলতে আসবেন না। অনেক ধৈর্য ধরেছি। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দেয়া এক বক্তব্যে এ হুশিয়ারি দেন তিনি।

জামায়তের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কানেকশন রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটা অডিও আপলোড হয়েছে। সেই অডিওতে জানা গেলো নারায়ণগঞ্জে নাশকতা চালাবে। তল্লার দিকে গোপন মিটিং করা হচ্ছিল। সেদিন জমায়েতের জেলা আমীর মাইনুদ্দিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তিনি বলেন, ওই অডিও থেকে জানলাম বুঝলাম কীভাবে জামায়াতের সাথে তারা আঁতাত করছিল। জামায়াতের আমির মাওলানা মাইনুদ্দীন আহমেদ রিমান্ডে পুলিশের কাছে নিজে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, মেয়র আইভী আমাদেরই লোক। তাই তাকে ভোট দিয়েছিলাম মেয়র হিসেবে। তিনি বলেছিলেন, শামীম ওসমান থাকলে আমরা সুবিধা করতে পারবো না। তাই আইভীকে দিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের ছেলেরা যখন কোথাও জন্ম নিববন্ধন পাচ্ছিলেন না, তখন এই তিনিই তাদের দিয়েছিলেন জন্মনিবন্ধন। এমন স্বীকারোক্তির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মেয়র আইভী নয়, তার প্রয়াত পিতা আলী আহম্মদ চুনকার সঙ্গে জামাতের কানেকশন ছিল দাবি ওই সম্মেলনে শামীম ওসমান একটি দলিল দেখিয়ে বলেন, ১৯৭৬ সালের ২১ অক্টোবর তারিখে এই দলিলটি করা হয়। এটা চুনকা সাহেব আদমজী এলাকায় বিশাল জমি লিখে জামাতের কাছে তুলে দিয়েছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার রক্তের দাগও তখনও শুকায়নি।