শীতে ভ্রমণের পছন্দের স্থান

৭ ডিসেম্বর ২০১৯


শীতে ভ্রমণের পছন্দের স্থান

বর্ষার পরপরই শীত নামে ধীরে ধীরে। ডিসেম্বরের শুরুতে হালকা শীত পড়া শুরু করে। আর ভ্রমণ পিপাসীদের শীতকাল ঘুরাঘুরির জন্য পারফেক্ট। অনেকেই তাই ডিসেম্বরের শীতে বের হয়ে পড়েন ঘুরতে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবারসহ দলবলে বেরিয়ে পড়েন।

জেনে নিতে পারেন শীতে ঘুরার জনপ্রিয় জায়গাগুলো সম্পর্কে

১. কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত :  শীতের জন্য অনেকে বেছে নেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। আপনি হয়তো ৫-৬ বার কক্সবাজার গিয়েছেন তারপরও কক্সবাজার এমন একটি জায়গা যেখানে আপনার এর পরের বার যেতেও বিরক্ত লাগবে না। শীতকালেই হচ্ছে কক্সবাজার বেড়ানোর জন্য আদর্শ সময়। হালকা শীতের মাঝে সমুদ্রের গর্জন নিশ্চয়ই আপনাকে শিহরিত করবে। তাই দেরি না করে এই শীতে ঘুরে আসুন বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা এই সমুদ্রসৈকত এ।

২. সেন্টমার্টিন দ্বীপ : সেন্টমার্টিন শীতকালে ভ্রমণের জন্য একদম পারফেক্ট জায়গা। স্থানীয়ভাবে নারকেল জিঞ্জিরা নামে এ দ্বীপে পরিবহন ব্যবস্থা ও সমুদ্রপথ শীতকালে ভ্রমণ অনুকূলে থাকায় প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এখানে ছুটে আসে। শীতে বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার নিয়ে আপনি ঘুরে যেতে পারেন সেন্টমার্টিন থেকে।

৩. সাজেক ভ্যালি : বর্তমানে ভ্রমণের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান সাজেক ভ্যালি। সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতায়। এখানে চারপাশে মনোরম পাহাড়ের সারি। সাদা তুলার মতো মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এখানকার আবহাওয়া খুব দ্রুত রূপ পরিবর্তন করে। আর আশপাশে পাবেন বেশ কিছু পাহাড়। কংলাক পাহাড়ের চূড়া থেকে শীতের সকালে কুয়াশার ফাঁক গলে সূর্যোদয় দেখতে কেমন লাগবে নিজেই একবার ভাবুন! সাজেকের বাকি সৌন্দর্য আপনি উপভোগ করুন সাজেক ভ্যালি গিয়েই।

৪. কেওক্রাডং এর চূড়া : বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা বান্দরবানে অবস্থিত। এক সময় এটিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ধরা হত। এর উচ্চতা প্রায় ৯৮৬ মিটার ৩,২৩৫ ফুট। যারা পাহাড়ে হাইকিং পছন্দ করেন কিংবা এডভেঞ্চার প্রেমিক তাদের জন্য কেওক্রাডং এর চূড়া পর্যন্ত হাইকিং হতে পারে জীবনের সেরা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। আপনি হয়তো কেওক্রাডং এর চূড়া পর্যন্ত হাইকিং করতে করতে হাঁপিয়ে যাবেন কিন্তু চূড়ায় উঠার পর আনমনেই মুখ ফুটে বলে উঠবেন – এখানে না আসলে তো জীবন টা ১৬ আনাই বৃথা ছিলো । আর আপনার যদি ভ্রমণ প্রেমী কিছু বন্ধু থাকে তাহলে কিসের দেরী !! ব্যাগ গুছানো শুরু করে দিতে পারেন বান্দরবানের দিকে । অগ্রিম শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য।

৫. নীলগিরি : বাংলাদেশের ভূ-স্বর্গ পার্বত্য জেলা বান্দরবান। মেঘ-পাহাড়ের খেলা দেখার পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ায় মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছা পূরণ করতে চাইলে যেতে হবে বান্দরবানের নীলগিরিতে। বান্দরবান শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বান্দরবান-থানছি পথ ধরে যেতে হবে নীলগিরি।

৬. সুন্দরবন : ভ্রমণপিপাসুদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণের জায়গা সুন্দরবন। একইসঙ্গে কচিখালী, কটকা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, জামতলা বীচ, হারবারিয়া ও করমজল ভ্রমণ করতে পারেন।

৭. কুয়াকাটা : শীতে সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক। সমুদ্রস্নানের উপযুক্ত সময়। এছাড়া কাঁকড়া দ্বীপ, গঙ্গারচর, রাখাইনপাড়া, বৌদ্ধমূর্তি এবং শুটকি পল্লি দেখে আসতে পারেন।

৮. জাফলং : ভ্রমণের জন্য এ সময় বেশ উপযুক্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে একটু অবসর পেলেই ঘুরে আসতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত স্থান। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন পাথরের স্বর্গ খ্যাত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংকে।