যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম নিলেন জামায়াতের নতুন আমির

৫ ডিসেম্বর ২০১৯


যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম নিলেন জামায়াতের নতুন আমির

জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান শপথ গ্রহণ শেষেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। একসঙ্গে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক নেতাদের নামও নেন। অবশ্য গোলাম আযমসহ অন্য নেতাদের নাম নেয়ার সময় তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি উল্লেখ করেননি, উল্টো ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য সরকার তাদেরকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে’ বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে। পাশাপাশি স্মরণ করছি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকেও।’ একইসঙ্গে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত নেতাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি প্রফেসর গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে, যারা ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে আজীবন চেষ্টা করে গেছেন।’ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতের নতুন আমির হিসেবে শপথগ্রহণের পর তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে নতুন জামায়াত প্রধান বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন নজিরবিহীনভাবে একযোগে মহড়া দিয়ে মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার।’

দেশের বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জামায়াতের নতুন আমির বলেন, ‘দেশের মানুষের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের অবস্থা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদায়ী আমির মকবুল আহমাদ, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।