আজও বন্ধ উত্তরের ১৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ

২ ডিসেম্বর ২০১৯


আজও বন্ধ উত্তরের ১৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ

পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও কর্মবিরতি পালন করছে উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা। গতকাল রোববার শুরু হওয়া পেট্রলপাম্প মালিকদের এ ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সোমবারও (২ ডিসেম্বর) কাজে যোগ না দেওয়ায় বাঘাবাড়ি নৌ বন্দরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল ডিপো হতে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলা, টাঙ্গাইল ও জামালপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 

তবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় ভোক্তা পর্যায়ে আপাতত তেলের সংকট সৃষ্টি হবেনা দাবি ডিপো কর্তৃপক্ষের। এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা শ্রমিকদের।  

তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, পেট্রলপাম্প জমির ইজারা, ট্যাংকলরি শ্রমিকদের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে দেশের অন্য এলাকার মত পেট্রলপাম্প মালিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উত্তরাঞ্চল ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন। 

সোমবার সকালেও ২ হাজার শ্রমিক কাজে অংশগ্রহণ না করায় শত-শত গাড়ি সমিতির সামনে অবস্থান করছে। যৌক্তিক দাবি আদায়েই তারা আন্দোলন চালাচ্ছেন বলে জানান তারা। 

এ ব্যাপারে ট্যাংলরি শ্রমিক আব্দুল হালিম ও সাইদুর রহমান জানান, আমরা ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। প্রত্যেক শ্রমিককে বীমার আওতায় আনতে হবে। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবেই। 

এদিকে, এ সকল জেলায় প্রতিদিন ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সরবারহ হলেও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে তা বন্ধ রয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলনরত শ্রমিকরা ধর্মঘট অব্যাহত রাখবে বলে জানান উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মোজাম্মেল হক। 

তিনি জানান, ১৫ দফা দাবি আদায়ে যে কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি। একটিও অযৌক্তিক নয়। সরকারই আমাদের আশা ভরসা। অবশ্যই তারা অসহায় শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবেন। 

তিনি আরো জানান, সমস্যা নিরসনে আজ ঢাকায় সরকারের উদ্যোগে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে। দাবি বাস্তবায়ন হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে।