সভা সমাবেশ করতে সরকারের অনুমতি চাই না : ফখরুল

২৬ নভেম্বর ২০১৯


সভা সমাবেশ করতে সরকারের অনুমতি চাই না : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে আজ প্রতিটি জিনিসের মূল্য লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। এনবিআর এর চেয়ারম্যানকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনের জন্য বেঠক করতে হয়। সেখানে বসেও তারা বলছে সব ঠিক আছে। আসলে কিছুই ঠিক নেই। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে ব্যার্থ এ সরকারের উচিৎ অবিলম্বে পদত্যাগ করা । মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেছেন, সরকার এখন নিজেদের প্রভূ ভাবতে শুরু করেছে। যেনো এ রাষ্ট্রের প্রভূ তারা। এটাই তাদের সমস্যা হয়ে গেছে এখন। এ কারণে সবকিছু তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে চান। ভিন্ন মতের দলগুলি কিভাবে চলবে, কিভাবে কাজ করবে এটা তারা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রন করতে চায়।

তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সভা সমাবেশ প্রতিবাদ করার সমস্ত অধিকার সংবিধানে আমাকে দেয়া আছে। আমরা সভা সমাবেশ করতে সরকারের অনুমতি চাই না। আমরা অবগত করতে চাই। এটা আমরা বরাবরই করে আসছি। কিন্তু সরকার একবারে গ্রাম্য মোড়লদের মত আচরণ করছে। সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় না। আবার তা দিলেও দু ঘন্টা আগে অনুমতি দেয়। বিগত সময়েও ক্ষমতায় গিয়ে বাকশাল কায়েম করে ও গণতন্ত্রকে হত্যা করে তারা প্রভূ হয়ে গিয়েছিল। এখন তো আবারো দশ বছর ধরে প্রভুত্ব করছেন। এবার পাকাপোক্ত প্রভূ হিসাবে বসতে চান।

মির্জা আলমগীর আরো বলেন, সরকার ক্ষমতা দখল করার পর অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ লোকদের দ্বায়িত্ব দিয়েছে। একটি অস্থিতিশীল দেশ পরিচালণা করার জন্য যে কৌশল, প্রজ্ঞা থাকা দরকার তা এ সরকারের মন্ত্রীদের নেই। কিছু কিছু মন্ত্রীরা ভেবে চিন্তে কথা বলেন না। এখানে একদলীয় নিয়ম একদলীয় শাসন চলছে, এখানে প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন তাই হবে। এখানে সুশাসনের অভাব, গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা তাদের মধ্যে একেবারেই নেই।  ১৬ কোটি মানুষের একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারণ সরকার দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহ সর্ব ক্ষেত্রে ব্যার্থ হয়েছে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিতে হয়, তা এ সরকারের কার্যক্রমে অনুপস্থিত। একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে তারা পাকাপোক্ত করতে চায়, সকল ক্ষেত্রে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছে। কোন ভিন্নমতের লোকদের চাকুরী হয় না।  সরকার যতই চিৎকার করুক আর মুখে কথা বলুক, তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। ফলে তাদের সে দূর্বলতা সব সময় কাজ করে। দেশ অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলছে উল্লেখ করে তিনি পুনরায় সরকারের পদত্যাগের দাবী জানান।

 এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি নূর এ শাহাদাৎ স্বজনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।