হলি আর্টিজান মামলার রায় আগামীকাল

২৬ নভেম্বর ২০১৯


হলি আর্টিজান মামলার রায় আগামীকাল

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বহুল আলোচিত হলি আর্টিজান মামলার রায় আগামীকাল বুধবার। রায়ে আট আসামির মৃত্যুদণ্ড আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে আসামি পক্ষ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছেন। মামলায় ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‍্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খান জাকির বলেন, হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় করা মামলায় রায়ে আট আসামির মৃত্যুদণ্ড আশা করছি। সাক্ষ্য প্রমাণে তা প্রমাণ করতে পেরেছি যে আসামিরা অপরাধী। তাই আশা করছি আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিবেন বিচারক।

অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাক্ষীর জেরা ও যুক্তি উপস্থাপনে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে আসামিরা অপরাধ করেনি। তাই রায়ে আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই। এদিকে এ রায়কে ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। 

গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হলি আর্টিজান হামলায় নব্য জেএমবির যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছিল, তাদের পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পাশাপাশি তাদের যে নেতা এবং মূল পরিকল্পনাকারী, তাদের আটজন বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছে, কেউ আত্মহত্যা করেছে।

মামলায় আটজন আসামি রয়েছে। তাদের কেন্দ্র করে অর্থাৎ এ রায়কে কেন্দ্র করে বা তাদের ছাড়িয়ে নিতে কিংবা অন্য কোনো নাশকতা কর্মকাণ্ড যাতে না করতে পারে, সেজন্য আমাদের ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক অব্যাহত রেখেছি।

জঙ্গিদের যে সেল রয়েছে তারা এবং সাইবার জগতে এরা অ্যাকটিভ রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নব্য জেএমবির পাঁচজনের সেলের তিনজন গ্রেফতার হলেও দু’জন এখনও গ্রেফতার হয়নি।

তাদের কর্মকাণ্ড আমরা নজরদারিতে রেখেছি। পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলাকারী নব্য জেএমবির সেলটি বোমা তৈরি করতে জানে। তারা অভিজ্ঞ। তারা পাঁচটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের দু’জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে তারা কোনো নাশকতা চালাতে না পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।