নির্বাচন কমিশনে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে: মাহবুব তালুকদার

২৫ নভেম্বর ২০১৯


নির্বাচন কমিশনে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে: মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ইসির কার্যক্রমে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে। যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালি বিধিমালা সমর্থন করে না। সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এখন অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।     

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কমিশন সচিবালয়ের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি চিঠি দিয়ে বিশদভাবে জানতে চাই, কিছু প্রশ্নের জবাব চাই। জবাবে জানানো হয়, হাতের লেখায় অমিল বা পরিচয়পত্রে অমিলের কারণে মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতারণার দায়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কারও কারও কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে চার কোটি আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন করলেও কতজন পরীক্ষককে কীভাবে এই টাকা দেওয়া হয় তার কোনও হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। নিয়োগ কমিটির সদস্যও এ বিষয়ে অবহিত নন। কমিশন সচিবালয় পরীক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরনের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ।’ 

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গত ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার বিষয়ে ও এর অর্থ ব্যয় নিয়ে কমিশনকে কিছুই অবহিত করা হয়নি। ফলে গত ২৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি ইউনোট পাঠিয়েছেন। তারা নোটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কাজের বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার জানতে চেয়েছেন।’