অনুমতি ছাড়াই সমাবেশ করব : আবারো বলল বিএনপি

২৪ নভেম্বর ২০১৯


অনুমতি ছাড়াই সমাবেশ করব : আবারো বলল বিএনপি

সভা-সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি নেওয়া হবে না বলে রবিবার ফের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এর আগে অক্টোবরেও দলটি একই ঘোষণা দেয়। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে তারা পুলিশের অনুমতি নিয়েই রবিবার সমাবেশ করে। অনুমতি না থাকায় বিএনপি শনিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ করেনি। অনুমতি সাপেক্ষে রোববার সমাবেশ করে তারা। সমাবেশে প্রধান অতিথি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনরায় একই ঘোষণা দিলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে’। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আর এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে’।

পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের পদচারণা আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা নয়া পল্টন ও আশপাশের এলাকা। নেতাকর্মীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় নেতাকর্মীদের মুখে স্লোগান ছিল-‘দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, দিতে হবে’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’, ‘শেখ হাসিনা গদি ছাড়ো, ছাড়তে হবে’।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে প্রায় ২০ মাস ধরে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি কোনো কিছুতে জড়িত না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে যে মামলা দেওয়া হয়েছিল সবগুলো মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল চারটি যা এখন হয়েছে ৩৭টি। আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৫টি যার সব তুলে নেওয়া হয়েছে

তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সমাবেশ করার জন্য সকাল ১০টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অনুমতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা সভা-সমাবেশ করার জন্য কোনো অনুমতি নেব না। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সভা সমাবেশ করবে বিএনপি। কারণ এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার’।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য যে, গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি করা এবং স্বৈরশাসকের পতন ঘটান। এ সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার না। জনগণের সমর্থন ছাড়া তারা অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনে আবার বুকের রক্ত দেব। এখন থেকে অন্য কোনো স্লোগান না দিয়ে স্লোগান হবে, এ সরকার নিপাত যাক’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। তারা হাজার হাজার পুলিশ নিয়োগ দিচ্ছে, কিন্তু দেশে কোন ছিনতাই-রাহাজানি কমছে না। তারা সড়ক নিয়ে আইন করেছে অথচ রাস্তায় প্রতিদিনই মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে’।

তিনি বলেন, ‘আজকে ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, শেয়ার মার্কেট লুট করে নিয়েছে, ব্যাংক চলছে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়, দলীয়করণ করে নিয়েছে। আজকে মিডিয়াকেও দখল করে নিয়েছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা আজকে সরকার চালাতে চায়, দেশ চালাতে চায়। সুতরাং আমাদের দেশকে যদি রক্ষা করতে হয়, নিজেদের রক্ষা করতে হয়, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’।

বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক রিজভী হাওলাদারের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘রিজভী আমাদের নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে সব সময়ই আমাদের এ কার্যালয়ে থাকতেন, সে রিজভী অনশন করা অবস্থায় গত শনিবার কার্যালয়ে মারা গেছেন। তাকে সব সময়ই কার্যালয়ে দেখতাম বুকের মধ্যে ‘গণতন্ত্রের মায়ের মুক্তি চাই’ লেখাটা লিখে রাখতেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি’’।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।