প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার প্রবেশ ‘বেআইনি’

২৩ নভেম্বর ২০১৯


প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার প্রবেশ ‘বেআইনি’

জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক বিষয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশাকে হস্তক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গেছেন। ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর অব. মো. খালেদ আখতার শনিবার এক বিবৃতিতে এমনটা জানান। হুসেইন মুহম্মদ ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডিও করেছেন।

মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ১৪ নভেম্বর বিদিশা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রেসিডেন্ট পার্কে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, ট্রাস্টের উক্ত সম্পত্তিতে বিদিশার প্রবেশের কোনো আইনগত অধিকার নেই।

তিনি দাবি করেন, এরিক এরশাদকে দিয়ে বিদিশা বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য আদায় করছেন। এরিকের দায়িত্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের বলেও দাবি তার।

বিদিশার প্রেসিডেন্ট পার্ক ভবনে প্রবেশের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানান তিনি। ছেলে এরিককে দেখার কথা বলে, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কে প্রবেশ করেন। শনিবার পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।

এর মধ্যে নিজের ও মায়ের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এরিক।

এদিকে দলিল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ওই অসিয়ত নামা সম্পাদন করা হয়। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদিত দলিলে (নম্বর ৬৮) বিদিশা সম্পর্কে এরশাদ লিখেছেন,‘অসিয়তকৃত সম্পত্তিসহ তোমার (এরিক) মালিকানাধীন সম্পত্তিতে আমার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকী কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করিতে পারিবে না, কিংবা তোমার একচ্ছত্র মালিকানা ও ভোগ দখলে কোনো প্রকার বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করিতে পারিবে না, কিংবা তোমার মালিকানা ও ভোগ দখলে কোনোরূপ তদারকি কিংবা অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনোরূপ পরামর্শ কিংবা কোনোরূপ আদেশ নিষেধ করিতে পারিবে না, কিংবা তোমার মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তি বিক্রয় বন্ধক কিংবা হস্তান্তর করিতে পারিবে না।’

এ ছাড়া ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল সম্পাদিত ট্রাস্টের উইলের ১১ নম্বর কলামে বলা হয়েছে, ‘বিদিশা কখনো ট্রাস্টের সম্পত্তি বা অর্থের ওপর কোনোরূপ দাবি করতে পারবে না। যদি কখনো কোনো রকম দাবি করে, তাহলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ এবং অগ্রাহ্য হবে।’