রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না : মির্জা ফখরুল

২০ নভেম্বর ২০১৯


রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, একটা সরকার যখন একটা দেশে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া নির্বাচিত হয়, তখন সর্বক্ষেত্রেই তার ব্যর্থতাগলো সামনে আসতে থাকে। তারা রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, কিন্তু ধীরে ধীরে সে নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতের বাইরে চলে যায়। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে গণতন্ত্র জনগণের কাছে বহু আগেই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। তারা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে। তিনি বুধবার শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত কথা বলন। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহ-সভাপতি নূরে সাহাদাত স্বজনসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, এই সরকার চায়না খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হোক। তারা কৌশলে খালাদে জিয়াকে আটক করে রেখেছে । যে মামলায় খালোদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে তা সাজানো একটি মামলা। এই মামলায় খালেজা জিয়ার বেল পাওয়ার যে আইনগত অধিকার রয়েছে সেটা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খালেদা জিয়া একজন জনপ্রিয় নেতা দাবী করে ফখরুল বলেন, এই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রেখে ভুল কাজ করছে। যদি তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসতো তাহলে বর্তমানে দেশে যে সংকট রয়েছে সেটি কাটিয়ে উঠতে পাড়তো। সরকার যদি খালেদা জিয়ার সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করেন তাহলে এই সংকট থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা যাবে। এই সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে ছদ্মবেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে পড়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয় যে দলটি অতীতে গণতন্ত্রের কথা বলেছে সেই দলটে ১৯৭৫ সালে ও এখন গণতন্ত্রের ধারাগুলো ভেঙ্গে দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে ছদ্মবেশে একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে চলে এসেছে। এজন্য তারা সংবিধান পরিবর্তন করেছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যমকে নষ্ট করে ফেলেছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পার্লামেন্ট বলতে এখানে কোন পার্লামেন্ট নেই। এই পার্লামেন্ট নির্বাচিত নয়। তাই এই ধরণের একটা দলের পক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যান্ত কঠিন কাজ। দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি, চুরি ডাকাতি, নারী ধর্ষণ অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে । আজ প্রশাসন ও পুলিশের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ঠাকুরগাঁও পাবলিক লাইব্রেরি ধ্বংস ও বড়মাঠের পাশের ড্রেন বন্ধ করে দোকানপাট গড়ে তোলাসহ কয়েকটি অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন সুশাসন আসলে নেই। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করছেনা। দুর্নীতিতে সব ডুবে গেছে।

বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আস্তে আস্তে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। সবচেয়ে অযোগ্য ও নিকৃষ্টকে আজ ভিসি’র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ প্রমাণিত, যে অভিযোগের কারণে ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদককে অপসারণ করা হলো, অথচ ভিসি বহাল তবিয়তে বহাল থাকলো। এই হলে গণতন্ত্র কোথায় কাজ করবে? ফ্যসিবাদী সরকারের সময় লড়াই করা একটু কঠিন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। আমার বিশ^াস গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। সড়ক পরিবহণ আইন হওয়া দরকার ও তা বাস্তবায়নও প্রয়োজন কিন্তু আইন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ করে আইন বাস্তব সম্মত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল বলেন। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো কিন্তু তারা সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে। তাদের কাছ থেকে সরকার বিভিন্ন অভিন্ন নদীর পানি আনতে পারেনি।