দেশে ফিরেছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমিসহ ৯১ নারী

১৫ নভেম্বর ২০১৯


দেশে ফিরেছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমিসহ ৯১ নারী

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি গৃহকর্মী সুমি আক্তার (২৬) অবশেষে দেশে ফিরছেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫১৭ নম্বর ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান সুমি। একই সঙ্গে সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন নির্যাতিত আরও ৯১ নারী গৃহকর্মী।সুমির স্বামী নূরুল ইসলাম বলেন, সুমি দেশে ফেরায় খুব আনন্দ লাগছে, তেমনি কষ্টও লাগছে। কারণ ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি গিয়েছিল সুমি, এখন খালি হাতে ফিরছে। সবকিছুর পর সুমি দেশে ফেরায় সরকারকে ধন্যবাদ।

তবে দেশে ফেরার পর সংবাদ মাধ্যমের অগোচরেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন সুমি। কিন্তু তার স্বামী নূরুল ইসলাম বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে ব্রাকের কর্মীরা জানান, সুমি ফ্লাইট থেকে নেমে টার্মিনাল এক দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। কিন্তু তার স্বামী ও গণমাধ্যম কর্মীরা টার্মিনাল-২ এ সুমি ও অন্য নির্যাতিত নারীদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

দেশটির নাজরান শহরের শ্রম আদালতে সুমির নিয়োগকর্তার (কপিল) দাবীকৃত অর্থ নামঞ্জুর হলে সুমির ফেরার পথ সুগম হয়। রোববার (১১ই নভেম্বর) জেদ্দার শ্রম আদালতে সুমির বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। এতে তার গৃহকর্তাকে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ করতে হবে না বলে রায় দেন বিচারক। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব কে এম সালাহ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজরান শহরের শ্রম আদালতে জেদ্দা কনস্যুলেট এর প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে সুমি আক্তারের বিষয়টি শুনানি হয়। আদালত শুনানিতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবীকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ফেরত পাওয়ার আবেদনটি নামঞ্জুর হয়। পাশাপাশি জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুমির কপিল তাকে দেশে ফেরার অনুমতিপত্র (ফাইনাল এক্সিট) প্রধান করেন।

নির্যাতিতা সুমি আক্তারকে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রচেষ্টায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুমির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি কান্নারত অবস্থায় গৃহকর্তার দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর গত ৪ নভেম্বর জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও নাজরান পুলিশ প্রধানের সহযোগিতায় সুমিকে তার গৃহকর্তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে একটি সেফ হোমে (নিরাপদ বাসস্থান) রাখা হয়।

পরে তাকে দেশে ফেরানোর প্রকৃয়া শুরু হয়, কিন্তু সেখানে নানা জটিলতা তৈরি হয়। তার সৌদি আরব ত্যাগে ২২ হাজার রিয়াল দাবি করেন নিয়োগকর্তা। তা না হলে সুমিকে ‘ফাইনাল এক্সিট’ (দেশে ফেরার অনুমতিপত্র) দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।