সংসদে দাঁড়িয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাই : রাঙ্গা

১৩ নভেম্বর ২০১৯


সংসদে দাঁড়িয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাই : রাঙ্গা

বিবৃতি দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর এবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ। তিনি বলেন, আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আশা করি, আমার কলিগরা এটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত সম্পর্কিত ধারায় তিনি এসব কথা বলেন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর ও ফেনসিডিলখোর’ অভিহিত করে দেশব্যাপী প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন জাপা মহাসচিব রাঙ্গাঁ। পরে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি ওই বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন উল্লেখ করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারও করেন তিনি বিবৃতিতে। তারপরও জাতীয় সংসদে সরকারি দলসহ নিজ দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদেরও তীব্র সমালোচনায় তুলোধোনা হন রাঙ্গাঁ। তবে ওই সময় তিনি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

আজ বুধবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তাতে যোগ দেন মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ। পরে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, নূর হোসেনকে নিয়ে আমি যে কটূক্তি করেছি, তার জন্য বিবৃতি দিয়ে নূর হোসেনের পরিবারের কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাই।

মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, গত ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র দিবস পালন নিয়ে একটি সভা ছিল, ছোট্ট পরিসরে। মাইক বাইরে ছিল না, ভেতরে সাউন্ডবক্সের মধ্যে আমরা কথা বলেছি। নূর হোসেন দিবসও একই দিন ছিল। পুরান ঢাকা থেকে কিছু লোক আমাদের ওখানে গিয়েছিলেন। তারা বলেন, নূর হোসেন চত্বরে এরশাদ সাহেবকে গালাগালি করা হয়েছে। এরকম কিছু কথাবার্তা শোনার পর তারা আমাদের অফিসে এসে বিষয়টি জানান। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদের শান্ত থাকতে বলি। এসময় তারা হৈ চৈ করেন।

জাপা মহাসচিব বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সিনিয়র মন্ত্রীরা আমার সম্পর্কে যেভাবে কথা বলেছেন, তাদের কথাগুলোতে আমি কিছু মনে করছি না। আমি মনে করি, আমি ভুল করেছি। সেজন্য তারা আমাকে শাসন করেছেন। রাঙ্গাঁ বলেন, ভুল করার জন্য নূর হোসেনের পরিবারের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছি এবং বিবৃতিও দিয়েছি।

রাঙ্গাঁ আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও যদি নিজের অজান্তেই কোনো কটূ কথা বলে থাকি, সেজন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই।