রাবেয়া খাতুন-সাদাত হোসাইন পেলেন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার

১২ নভেম্বর ২০১৯


রাবেয়া খাতুন-সাদাত হোসাইন পেলেন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে এবং নবীন-প্রবীণ কথাসাহিত্যিকদের শিল্পসৃষ্টিতে প্রেরণা যোগাতে ২০১৫ সাল প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। এবার এই আয়োজনে সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পুরষ্কারটি পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন।  নবীন সাহিত্য ক‌্যাটাগরিতে পুরষ্কার পেয়েছেন সাদাত হোসাইন।  তার পুরষ্কারপ্রাপ্ত বইয়ের নাম নিঃসঙ্গ নক্ষত্র। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ূন আহমেদের অনুজ কথাশিল্পী মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আপন সৃষ্টিশীলতায় আচ্ছন্ন রেখেছেন তিনি কোটি বাঙালিকে। তার একটা নিজস্ব কণ্ঠস্বর আছে। পড়ামাত্রই তার লেখা চেনা যায়। পরিস্থিতি নির্মাণ, বর্ণনাভঙ্গি, সংলাপে তিনি এমন এক শৈলীর উদ্ভাবন করেছেন যা বাংলাসাহিত্যে অতুলনীয়। হুমায়ুন আহমেদ যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবেন।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেন হুমায়ুন আহমেদ নন্দিত লেখক, কিন্তু কিংবদন্তী লেখক কি? আমি বলব- তারা ভুল বলেন। কারণ হুমায়ূন আহমেদ কিংবদন্তী লেখক বলেই জননন্দিত।

তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে বর্ণনা করতে হলে, তাকে জানতে হলে তার সকল সৃষ্টিকর্ম পড়তে হবে। দু-একটি লেখা নিয়ে কারোরই লেখার সমালোচনা বা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো সঠিক নয়।  সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী একজন লেখকেরও সব লেখা একই মানের হয়না। হুমায়ূনের সব লেখা একই মানের হবে না, এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু এটা সবাই স্বীকার করবেন এক বাক্যে- হুমায়ূন আহমেদের সব লেখাই পাঠকনন্দিত।

প্রবীণ কথাশিল্পী রায়েয়া খাতুনের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল পাঁচ লাখ ও সাদাত হোসাইনের হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।