সাতক্ষীরায় আঘাত হেনেছে ‌‘বুলবুল’, ৪শ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

১০ নভেম্বর ২০১৯


সাতক্ষীরায় আঘাত হেনেছে ‌‘বুলবুল’, ৪শ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

সাতক্ষীরায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ৩টার পর থে‌কে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে চলছে ভারি বর্ষণ। এতে উপকূলীয় শ্যামনগ‌র এলাকার ক‌য়েক হাজার গাছগাছা‌লি উপ‌ড়ে প‌ড়ে‌ছে। বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে প্রায় চার শতা‌ধিক ঘরবা‌ড়ি।

আজ রোববার সকালে শ্যামনগর উপজেলা থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপকূলীয় শ্যামনগ‌র এলাকায় ক‌য়েক হাজার গাছগাছা‌লি উপ‌ড়ে প‌ড়ে‌ছে। বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে প্রায় চার শতা‌ধিক কাচা ঘরবা‌ড়ি। এ ছাড়া বৃ‌ষ্টির পা‌নি‌তে বি‌ভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, উপকূল অতিক্রমরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও সামান্য উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে (সুন্দরবনের কাছ দিয়ে) পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ক্রমশ দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বুলবুল অতিক্রমের সময় উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এসব এলাকার নিন্মাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুটের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।