রবিবার | ২৪ জানুয়ারী ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • কানাডায় এয়ারলাইনস ব্যবসায় ধস, চলছে কর্মী ছাটাই
  • মহামারির প্রভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কানাডিয়ানরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৩৭ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে মেয়াদ শেষে আর  ফিরে আসেননি।

এছাড়া ওই শিক্ষকরা যে দেশে গেছেন সেখানে আছেন কিনা, তাদের বর্তমান অবস্থান কোথায় সে সম্পর্কে কিছু জানাচ্ছেন না বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।  

দেশে ও বিদেশের ঠিকানায় এসব শিক্ষক ও তাদের গ্যারান্টারদের একাধিক চিঠি দিয়েও সাড়া পাচ্ছেন না খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস  বলেন, এ অভিযোগে তিনজন শিক্ষককে ইতিমধ্যে বরখাস্ত এবং একাধিক শিক্ষককে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৪৭৭ জন শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ১৬৫ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৯৬ জন, সহকারী অধ্যাপক ১৩৬ জন এবং প্রভাষক ৮০ জন।

তিনি আরও জানান, এদের মধ্যে শিক্ষাছুটিতে বিদেশে রয়েছেন মোট ৭৬ জন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক ১৭ জন, সহযোগী অধ্যাপক ২৩ জন এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক মিলে ৩৬ জন।“বিদেশে থাকা এই ৭৬ জনের মধ্যে ৩৭ জন শিক্ষাছুটির মেয়াদ পার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরেননি।”না ফেরাদের এই তালিকায় অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক মিলে ১০ জন এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক মিলে ২৭ জন রয়েছেন ।

ইতিমধ্যে এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

র্সত্র জানিয়েছে, সিইসি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক এসএম মাসুদ করীমকে, এফএমআটি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. শেখ বজলুর রহমানকে ও অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলামকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।এছাড়া এই তিনজনসহ ইএস ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজিম উদ্দিন ও ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মোছা. ইশরাত জাহান শহীদের বিরুদ্ধে মামলা চলেছে এবং আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

সূত্রে জানা গেছে, একজন শিক্ষক মাস্টার্স, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরাল সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত ছুটি পাবেন। সেইক্ষেত্রে তিনি পাঁচ বছর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত বেতন পাবেন। আর পরবর্তী এক বছর তিনি বেতনের অর্ধেক পাবেন। আর সপ্তম বছর বিনা বেতনে তিনি শিক্ষা ছুটি ভোগ করতে পারবেন।“তবে শর্ত থাকে যে ওই শিক্ষক যে কয় বছর শিক্ষা ছুটি কাটাবেন দেশে ফিরে এসে এই প্রতিষ্ঠানে নূন্যতম সেই কয়বছর শিক্ষাদান করবেন। আর যদি তিনি না ফেরেন তবে সুদসহ সমুদয় গৃহীত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা দিতে হবে।“কিন্তু অনেক শিক্ষক শিক্ষা ছুটি শেষ করলেও দেশে ফিরছেন না, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।”বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সাধন রঞ্জন ঘোষ বলেন, “৩৭ জন শিক্ষকের কাছে মোট পাওনা ছিল তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা, আদায় হয়েছে এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা।”বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ফায়েক উজ জামান বলেন, “রাষ্ট্রীয় খরচে উচ্চশিক্ষার নামে বিদেশ গিয়ে যারা দেশে না ফিরে সরকারি কোষাগারে পাওনাদি পরিশোধ করছেন না, তারা কখনওই রাষ্ট্রের মঙ্গল চায় না। তারা কোন দেশে আছেন, কোথায় কী করছেন এসব বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি।”আগামীতে সেইসব দেশের সরকারকেও কর্তৃপক্ষ চিঠি লিখবে বলেও তিনি জানান।