ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না কেন, প্রশ্ন ফখরুলের

২৮ অক্টোবর ২০১৯


ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না কেন, প্রশ্ন ফখরুলের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষকেরা বর্তমানে হতাশ। তারা তাদের ফসলের ন্যর্য মূল্য পাচ্ছে না। সম্প্রতি ধানের দাম পায়নি। আলু নিয়ে বর্তমানে চরম খারাপ অবস্থা বিরাজমান। কৃষকেরা তাই দিন দিন আবাদ কমিয়ে দিচ্ছে। একদিকে কৃষিপন্যের দাম নাই; অন্যদিকে আমরা চিৎকার করে বলছি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাবো। সিঙ্গাপুরের আসল রহস্য কি জানেন? সেখানে কোন ফসল হয় না। সেখানে সবকিছু আমদানি করে আনা হয়। যেখানে কৃষকেরা পন্যের ন্যায্য মুল্য পায় না সেখানে কিসের উন্নয়ন আসে আমাদের মাথায় তা ঢুকে না। আমাদের কৃষক ভাল থাকলে, পন্যের সঠিক মুল্য পেলে আমাদের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। জিডিপির গ্রোধ দেখিয়ে মানুষকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। যে উন্নয়ন আমাদের ঋনগ্রস্থ করে দেবে। যে উন্নয়ন আমাদের পরনির্ভরশীল করে দেবে। যে উন্নয়ন আমাদের ভবিষ্যতকে বন্ধ করে দেবে। সে উন্নয়ন উন্নয়ন হতে পারে না। তিনি গতকাল সোমবার জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই। অর্থাৎ যদি আমি চাই একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস করবো, আমি একটা গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মান করবো। যেখানে সকলের কথা বলার অধিকার আছে। সকলের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজ কি বাংলাদেশে এমন অবস্থা আছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মানে সকলের মতামতের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। যেখানে সুশাসন থাকবে, ন্যয় বিচার থাকবে। কিন্তু বর্তমানে দেশে আমি কি চিন্তা করি তা বলতে পারবো না, যা ভাবি তা করতে পারবো না। ৫ বছর পরে সংবিধান আমকে যে অধিকার দিয়েছে ভোটের সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবো না।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। তার বেশিরভাগ জীবন তিনি গণতন্ত্রের জন্য উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু আজ তাঁকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আজকে এই সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে, রাজনৈতিক অবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে অন্যায়ভাবে, অমানবিকভাবে আটক রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকার বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, হাসি পায়। আজকে ক্যাসিনো ব্যবসার মূল হতারা কই। ছাত্রদের টাকা ভাগ বাটোয়ারার বিচার কই। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারকে কিভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। চিন্তা করতে পারেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাকে বর্তমানে চিন্তা করতে হয় আমার অধিকার কোথায়? আমার সুশাসন কোথায়, আমার সুন্দর সমাজ কোথায়?  এর একমাত্র কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। মানুষের অধিকার, সুশাসনের বিশ্বাস করে না। তাদের শাসনটাই শাসন। দেশের প্রধান তিনটি নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদীর বর্তমান অবস্থা কি রকম। ভারত বাংলাদেশের মিত্র রাষ্ট্র কিন্তু আজ পর্যন্ত কি তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। বাংলাদেশ কি পানির ন্যায্য

হিস্যা পেয়েছে। এ ব্যপারে কোন অগ্রগতি কি বর্তমান সরকার করতে পেরেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমানে শেষ। গণ লুটপাট, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। শেয়ার বাজার লুট করা হয়েছে। বর্তমানে আইনের শাসন নাই। যাকে ইচ্ছা করে ধরে নিয়ে টাকা দিলে ছাড়ে না হলে মামলা দেয়। এ সব কিছুর ব্যাপারে কাকে বিচার দিবেন। কাকে বলবেন যেখানে সরকার নিজেই ভক্ষক। তার এজেন্সিগুলো ধ্বংস। তাই সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে একসাথে, এক স্বরে বলতে হবে, মুক্তি চাই দিতে হবে। সেই মুক্তি বেগম জিয়ার মুক্তি। দুঃশাসনের মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি। গলা টিপে ধরা থেকে মুক্তি।

সম্মেলনে জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদের সভাপতি আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে প্রথান অতিথি ছাড়াও বক্তব্য দেন, প্রধান বক্তা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন,  বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস ন¤্র চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাফরুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আল উজ্জল। পরে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি আনোয়ারুল হককে পুনরায় সভাপতি ও খুরশীদ আলম উজ্জলকে সাধারণ সম্পাদক এবং  আবু নাসেরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা কৃষকদলের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।