জামাই-শাশুড়ির বিয়ে, চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

২৮ অক্টোবর ২০১৯


জামাই-শাশুড়ির বিয়ে, চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় আলোচিত জামাই-শাশুড়ির বিয়ের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার গোপালপুর আমলী আদালতে শাশুড়ি মাজেদা বেগম বাদী হয়ে হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাদের তালুকদার ও সদস্য এবং কাজীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে গোপালপুর আমলী আদালতের বিচারক শামছুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালপুর থানাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটার গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী মাজেদা বেগম ও তার মেয়ের জামাইকে মারধর করে স্বামীর সঙ্গে তালাক দিয়ে মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের তালুদকার ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ সালিশি বৈঠকে উপস্থিত অন্য মাতব্বররা বিচার করে শাশুড়ি-জামাইয়ের বিয়ের এ নির্দেশ দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। জামাই-শাশুড়ির বিয়ে শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিধি নিষেধ না মানায় ক্ষুব্ধ হয় স্থানীয়রা।

বাদীর আইনজীবী টাঙ্গাইল জর্জকোর্টের অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রোববার আদালতে মাজেদা বেগম হাজির হয়ে তার স্বামী নুরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান ও কাজী গোলাম মওলাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলায় দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালপুর থানাকে তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে মাজেদা বেগম টাঙ্গাইলে বাসাভাড়া করে আলাদা বসবাস করছেন।’

এদিকে অভিযুক্ত হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাদের তালুকদার জামাই-শাশুড়ির জোড় করে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘শাশুড়ি এবং জামাইয়ের সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে ধরে মারধর শুরু করে। পরে আমি গিয়ে বাধা দেই। তারা পারিবারিকভাবেই তালাক দিয়ে একে অপরকে বিয়ে করেছেন।’

এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিয়ের সময় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। শুনেছি শাশুড়ি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্ত ও প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটা গ্রামের হতদরিদ্র নুরুল ইসলামের (নুরু) মেয়ে নূরন্নাহারের সঙ্গে পাশের ধনবাড়ি উপজেলার হাজরাবাড়ীর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোনছের আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর সৃষ্টি হয় পারিবারিক কলহ। বিয়ের দেড় মাস পর মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান শাশুড়ি। ৮ অক্টোবর সকালে স্ত্রী, শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি কড়িয়াটাতে আসেন মোনছের। এ সময় স্ত্রী নূরন্নাহার তার অভিভাবকদের স্বামীর সংসার করবেন না বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ গ্রামবাসী সালিশি বৈঠক করেন। বৈঠকে মেয়ে স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অস্বীকার করলে রাগ ও ক্ষোভে মা বলে উঠেন, ‘তুই না করলে আমি করব।’ আর এতেই মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাশুড়ি ও মেয়ের জামাইকে মারধরের আদেশ দেন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় মাতব্বররা। এরপর শ্বশুরকে দিয়ে শাশুড়ি এবং মোনছেরকে দিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন তারা। পরে একই বৈঠকে কাজী গোলাম মওলা শাশুড়ির সঙ্গে মেয়ের জামাইয়ের বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন।