শুদ্ধি অভিযান: ক্ষমতাসীন দল ও জোটে অস্থিরতা

২৫ অক্টোবর ২০১৯


শুদ্ধি অভিযান: ক্ষমতাসীন দল ও জোটে অস্থিরতা

চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে অস্থিরতা চলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের মধ্যে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ধরা পড়ে কারাগারে আছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। পদ-পদবী হারিয়েছেন কয়েকজন, তাদের ব্যাংক একাউন্টও জব্দ করা হয়েছে। এসব নেতারা গেলো প্রায় এক দশক ধরে দোদণ্ড প্রতাপে রাজপথ কাপিয়েছেন। চলমান অভিযানের ধাক্কা লেগেছে ক্ষমতাসীন দলের শরীকদের মধ্যেও। যদিও প্রকাশ্যে তা মানতে নারাজ নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। রাজধানীর ওয়ান্ডারার্স, ইয়ংমেন্স, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন ক্লাবে ধরা পড়ে অবৈধ ক্যাসিনো। উদ্ধার করা হয়, বিপুল অর্থ, মাদক ও জুয়ার সরঞ্জাম। যার সঙ্গে সম্পৃক্ততা মেলে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, এনামুল হক আরমান, খালেদ মাহমুদ ভূইয়াসহ ধরা পড়েন বেশ কয়েকজন যুবলীগ নেতা ও সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার, ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেননসহ নতুন নতুন নাম আসতে থাকে আলোচনায়।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি ঝড়ে পদ হারান যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি ঝড়ে পদ হারান যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। সবশেষ পদ হারিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথও। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শুদ্ধি অভিযান দেশে-বিদেশে প্রশংসা পেয়েছে; দেশের মানুষ এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। এ অভিযানে কারো স্বার্থে আঘাত লাগলেও এটি অব্যাহত থাকবে। যতদিন দলের ভেতর অসৎ নেতাকর্মী থাকবে, ততদিন শুদ্ধি অভিযান চলবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে, শুদ্ধি অভিযান শুধু আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগী সংগঠনেই চলবে না, সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান ধরা পরা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া জানান, রাশেদ খান মেননকে ম্যানেজ করেই ক্যাসিনো চালাতেন তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ নিয়ে চাপে ছিলেন তিনি। এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এমন মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় আসেন মেনন। এ বক্তব্যের বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে ১৪ দল। যথাসময়ে এর জবাব দেয়ার কথা জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি।

খালেদ মাহমুদ ভূইয়া

চাঁদা দাবির অভিযোগে, ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এরপর গণমাধ্যমে যুবলীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ঢাকার ৬০টি জায়গায় ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশ হয়। এরপর ১৮ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান শুরু হয়। সূত্র: পার্সটুডে