নুসরাত হত্যা : ১৬ আসামিকে ফাঁসির আদেশ

২৪ অক্টোবর ২০১৯


নুসরাত হত্যা : ১৬ আসামিকে ফাঁসির আদেশ

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ১৬ আসামিকেই ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ফেনী আদালতে এই মামলার রায় দেন আদালত। রায় ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালতসহ ফেনীতে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ৫০ দিনের মাথায় দেয়া হয় মামলার চার্জশিট। আর ছয় মাসের মাথায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে মামলার রায়।

কথা চলছিলো উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হবে সিঙ্গাপুর। কিন্তু চিকিৎসকদের শত চেষ্টা, রাষ্ট্রের সবোর্চ্চ পর্যায়ের আন্তরিকতা ও সমগ্র দেশবাসীর সহমর্মিতাও ধরে রাখতে পারেনি নুসরাত জাহান রাফিকে। গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়তির কাছে হার মানেন নুসরাত। জীবন মৃত্যুর ভেদরেখা মুছে অনন্ত অসীমের পথে যাত্রা করেন তিনি।

পরের দিন স্থানীয় সাবের সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হয় ফেনীর ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও হাহাকার তোলা জানাজা। পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী লাশটি কাঁধে ময়দানে আসেন নুসরাতের বাবা।

এর আগে ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় নুসরাতের শরীরে। মুমূর্ষু অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল ঘুরে নুসরাতকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। ৮ এপ্রিল আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন নুসরাতের ভাই।

আগুনে পোড়ার আগে নুসরাত থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তার বক্তব্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে প্রত্যাহার হয় সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে। পরে তাকে বদলি করা হয় রংপুর রেঞ্জে। এই অভিযোগে এক আইনজীবীর করা আইসিটি অ্যাক্টের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে পালিয়ে যান তিনি। পরে ১৬ জুন গ্রেফতার হন ঢাকা থেকে। এর আগে প্রত্যাহার হন ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।