আন্দোলন স্থগিত, মাঠে ফিরছেন সাকিবরা

২৩ অক্টোবর ২০১৯


আন্দোলন স্থগিত, মাঠে ফিরছেন সাকিবরা

চলমান আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন ক্রিকেটাররা। আন্দোলন স্থগিত করে আগামী শুক্রবার তারা মাঠে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড’র (বিসিবি) সভাপতি ও পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় শনিবার থেকে যথারীতি এনসিএল খেলবেন তারা এবং ২৫ অক্টোবর, তথা শুক্রবার থেকে ভারত সফর উপলক্ষে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরে আসবেন। এর আগে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিসিবি’র সঙ্গে আলোচনায় বসেন আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা। সন্ধ্যায় শুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তারা বিসিবির কার্যালয়ে পৌঁছেন। 

সন্ধ্যায় ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় ১৩ দফা দাবি পেশের পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিলেন, বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি ক্রিকেটাররা। আজই (বুধবার) বোর্ডে যাবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর বিসিবিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনে নামা ক্রিকেটাররা। রাত ৯টার দিকে গুলশান থেকে মিরপুরে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয়ে পৌঁছান তামিম ইকবাল। এরপর একে একে ভেতরে গেছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েসরা। এরপর গণমাধ্যমকে বাইরে অপেক্ষায় রেখে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেন। সেখানে বোর্ডের সঙ্গে রাতেই বসার ব্যাপারে তারা সম্মত হন।

সংবাদ সম্মেলনে পূর্বঘোষিত ১১ দফা দাবির সঙ্গে আরও দুটি যোগ করে মোট ১৩ দফা দাবির কথা জানান ধর্মঘটের ডাক দেওয়া ক্রিকেটাররা। তাদের পক্ষে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। সেই সঙ্গে তিনি জানান, বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা।

যোগ হওয়া দুটি দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- বোর্ডের লাভের ভাগ দিতে হবে ক্রিকেটারদের। সেই সঙ্গে নারী ক্রিকেট দলকেও দিতে হবে ন্যায্য ভাগ। ক্রিকেটারদের আইনজীবী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তারা ১৩ দফা দাবি সম্বলিত চিঠি পাঠিয়েছেন বোর্ডের কাছে।

১১ দফা দাবি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর সাকিব আল হাসান বলেন, ‘যেহেতু আমাদের বিসিবি ডেকেছে, আমরা অবশ্যই যাব। সেটা এখন আমরা আলোচনা করব। যত দ্রুত যাওয়া সম্ভব হয়, আমরা যাব। আমরাই যোগাযোগ করব বিসিবির সঙ্গে। আমরা গিয়ে কথা বললে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা কেউ কারও থেকে দূরে না। এই দুটি অংশ (বোর্ড-ক্রিকেটার) মিলিয়েই বিসিবি। আরও কিছু অংশও আছে। ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা কোনো খেলোয়াড়ের নাই। 

আমরা বিসিবির প্রতি আমাদের আগে যে সম্মান ছিল, ‘এটার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে উপস্থিত প্রতিটি খেলোয়াড় চান খেলতে, সুস্থ থাকতে, নিজেদের পরিবারকে সহায়তা করতে। যে কারণে এই দাবিগুলো করতে হয়, আর সেটাই তারা করেছে।’